Home অন্যান্য মহাকাশে রহস্যময় ‘লোহার দণ্ড’: পৃথিবীর ভয়াবহ পরিণতির আগাম সঙ্কেত?

মহাকাশে রহস্যময় ‘লোহার দণ্ড’: পৃথিবীর ভয়াবহ পরিণতির আগাম সঙ্কেত?

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পৃথিবী থেকে প্রায় ২,২৮৩ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ‘রিং নেবুলা’ বা বলয় নীহারিকার কেন্দ্রে একটি রহস্যময় ‘লোহার দণ্ড’ (Iron Bar) খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আয়নিত আয়রন বা লোহা পরমাণুর এই দীর্ঘ স্তরটি বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে, কারণ এর আগে মহাকাশে এমন কোনো কাঠামো দেখা যায়নি।
গবেষকদের মতে, এটি হতে পারে কোনো এক সময়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া পৃথিবীর মতো কোনো পাথুরে গ্রহের অবশিষ্টাংশ।
কী এই রহস্যময় কাঠামো?
কার্ডিফ ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ডক্টর রজার ওয়েসনের নেতৃত্বে একদল গবেষক ‘উইলিয়াম হার্শেল টেলিস্কোপ’-এ একটি নতুন যন্ত্র (LIFU) ব্যবহার করে এই নীহারিকাটি পর্যবেক্ষণ করেন।
তারা দেখতে পান যে, নীহারিকার চিরচেনা উজ্জ্বল বলয়ের ঠিক মাঝখানে আয়নিত লোহার পরমাণুর একটি দণ্ড বা রেখা প্রসারিত হয়ে আছে।
ডক্টর ওয়েসন বলেন, “ডেটা প্রসেসিং করার সময় হঠাৎ করেই এই বিষয়টি আমাদের চোখে পড়ে। আমরা আগে কখনো এমন কিছু দেখিনি।”
পৃথিবীর ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি?
বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই লোহার দণ্ডটি আসলে একটি গ্রহের কঙ্কাল। আজ থেকে প্রায় ৪,০০০ বছর আগে যখন রিং নেবুলার কেন্দ্রীয় নক্ষত্রটি মারা যাচ্ছিল, তখন সেটি ফুলে-ফেঁপে একটি ‘রেড জায়ান্ট’ বা লোহিত দানবে পরিণত হয়েছিল।
সেই সময় নক্ষত্রটি তার আশেপাশে থাকা কোনো পাথুরে গ্রহকে গিলে ফেলে এবং বাষ্পীভূত করে দেয়।
মজার বিষয় হলো, এই দণ্ডটিতে যে পরিমাণ লোহা রয়েছে, তা বুধ বা মঙ্গল গ্রহের চেয়ে কিছুটা বেশি এবং পৃথিবী বা শুক্র গ্রহের লোহার পরিমাণের চেয়ে সামান্য কম। এটি নির্দেশ করে যে, ধ্বংস হওয়া গ্রহটি অনেকটা আমাদের পৃথিবীর মতোই ছিল।
সূর্যের মৃত্যু ও পৃথিবীর পরিণতি
আমাদের সূর্যও বর্তমানে তার জীবনের মধ্যগগনে আছে। আজ থেকে প্রায় ৫০০ কোটি বছর পর সূর্যের হাইড্রোজেন জ্বালানি ফুরিয়ে আসবে। তখন সূর্য বর্তমানের তুলনায় প্রায় ২০০ গুণ বড় হয়ে একটি লোহিত দানবে পরিণত হবে। সেই দানবীয় সূর্য বুধ, শুক্র এবং সম্ভবত পৃথিবী কেউ গিলে ফেলবে।
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী তখন হয় সূর্যের প্রচণ্ড তাপে বাষ্পীভূত হয়ে যাবে, অথবা মহাকর্ষীয় বলের টানে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে। রিং নেবুলার এই লোহার দণ্ডটি সম্ভবত সেই ধ্বংসলীলারই একটি বর্তমান নিদর্শন, যা কয়েক বিলিয়ন বছর পর আমাদের পৃথিবীর ভাগ্যেও ঘটতে পারে।
অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ গবেষণা
তবে গবেষকরা এখনই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না যে এটি গ্রহেরই অবশিষ্টাংশ। ডক্টর ওয়েসন জানান, অন্য কোনো অজানা মহাজাগতিক প্রক্রিয়ার কারণেও এটি তৈরি হতে পারে। এই রহস্যের জট খুলতে বিজ্ঞানীরা অন্যান্য নীহারিকাগুলোতেও এমন ‘লোহার দণ্ড’ খুঁজছেন।
যদি আরও কয়েকটি এমন উদাহরণ পাওয়া যায়, তবে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে নক্ষত্রের মৃত্যুর সময় গ্রহগুলোর ঠিক কী দশা হয়।