Home রাজনীতি আদর্শের অনির্বাণ শিখা: রামগড়ের রাজপথে এক নিঃস্বার্থ সেনানির গল্প

আদর্শের অনির্বাণ শিখা: রামগড়ের রাজপথে এক নিঃস্বার্থ সেনানির গল্প

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, রামগড়: রাজনীতি মানে কেবল ক্ষমতার দাপট নয়, বরং চরম অনিশ্চয়তা আর ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ে বিশ্বাসের পতাকাকে উঁচিয়ে ধরার নামই প্রকৃত রাজনীতি। খাগড়াছড়ির রামগড় জনপদে তেমনই এক অকুতোভয় নাম সাইফুল ইসলাম।

যখন ১/১১-এর প্রলয়ংকরী ঝড়ে চারপাশ তছনছ হচ্ছিল, রাজনীতির মাঠ থেকে অনেকে যখন পিছু হটছিলেন, ঠিক তখনই খাগড়াছড়ির পাহাড় ঘেরা এই জনপদে দলের হাল ধরেছিলেন জিয়া পরিষদের রামগড় উপজেলার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।

ভয় কিংবা রক্তচক্ষু তাকে কোনোদিন দমাতে পারেনি। তার কাছে রাজনীতি ছিল এক আত্মিক টান, এক গভীর আদর্শ। রামগড় উপজেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সংগঠনটি ফিরে পেয়েছে এক নতুন প্রাণশক্তি।

পাহাড়ের কিংবদন্তি নেতা ওয়াদুদ ভূইয়ার প্রতিটি ডাকে তিনি ছিলেন সামনের সারির এক অতন্দ্র প্রহরী। চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি—যেখানেই আন্দোলনের আগুন জ্বলেছে, সেখানেই এই সাহসী কাফেলার উপস্থিতি ছিল অনিবার্য।

বিগত সরকারের শাসনামলে নানা বাধা, পুলিশের চেকপোস্ট আর গোয়েন্দা নজরদারিকে তুড়ি মেরে তিনি রাজপথের লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের আগে, যখন অনেক রাজনৈতিক সংগঠন ছিল স্থবির, তখন রামগড় উপজেলা জিয়া পরিষদের কমিটি গঠন ছিল এক অভাবনীয় সাহসী ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টান্ত। এই সংগঠনের প্রতিটি কর্মী পদ বা ব্যক্তিগত লালসার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করেছেন কেবল দলের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা থেকে।

সময়ের বিবর্তনে অনেক নতুন মুখের ভিড় বেড়েছে, কেউ কেউ খুঁজেছেন ব্যক্তিগত স্বার্থ। কিন্তু সাইফুল ইসলামের মতো কর্মীরা প্রমাণ করেছেন, প্রকৃত রাজনীতি মানেই হলো ত্যাগ এবং মানুষের হৃদয়ে অক্ষয় জায়গা করে নেওয়া। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে জনমত গড়ে তুলতে তিনি ছিলেন আপসহীন।

রামগড়ের এই নির্ভীক সৈনিকেরা কেবল অতীতের দুঃসময়ের সাক্ষী নন, তারা আগামীর এক সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্নসারথি। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এমন কর্মীদের মাধ্যমেই আজও বেঁচে আছে মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই।


নিয়মিত আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন