Home চট্টগ্রাম নতুন বইয়ের ঘ্রাণে বিজিএমইএ স্কুলে উৎসবের আমেজ: উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

নতুন বইয়ের ঘ্রাণে বিজিএমইএ স্কুলে উৎসবের আমেজ: উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিজিএমইএ স্কুলের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বই উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। ৭ জানুয়ারি বুধবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নতুন বছরের প্রথম দিনেই বিনামূল্যে সরকারি পাঠ্যবই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক শামসুল আলমের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি তাদের নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি মাধ্যম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ-র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বই হলো একটি আলোকিত সমাজ গড়ার প্রধান হাতিয়ার। পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে ২০০৫ সালে তৎকালীন প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালামের উদ্যোগে এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

বর্তমানে এই শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পোশাক শ্রমিকদের আবাসস্থল অধ্যুষিত এলাকায় স্কুলটিকে আরও বড় পরিসরে এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত মনোরম পরিবেশে স্থানান্তর ও সম্প্রসারণের একটি বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

স্কুল ইনচার্জ ও বিজিএমইএ পরিচালক এনামুল আজিজ চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার যাবতীয় ভার বিজিএমইএ বহন করে। বইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জুতা, মোজা, স্কুল ব্যাগ, ইউনিফর্ম এবং নিয়মিত নাস্তাও প্রদান করা হয়। এ বছরও অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব শিক্ষার্থীর ইউনিফর্ম নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে স্কুলের প্রাক্তন মেধাবী ছাত্র মামুন উর রহমান, যিনি বর্তমানে নোয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পড়ছেন, তাকে তার পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাসিক ৫,০০০ টাকা করে বৃত্তি প্রদানের ঘোষণা দেন এনামুল আজিজ চৌধুরী। এই বৃত্তি প্রদান করা হবে তার পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ‘সোহেল সামাদ মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ থেকে।

বিজিএমইএ স্কুল বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আরশাদ উল্লাহ রহমান তার বক্তব্যে বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর নতুন প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। এছাড়া স্কুলের সদস্য নুরুল ইসলাম চৌধুরী উৎপল এবং এনামুল আজিজ চৌধুরীর পক্ষ থেকে এ বছর সকল ছাত্র-ছাত্রীর ইউনিফর্মের যাবতীয় সরঞ্জাম প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. করিম উল্লাহ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রাক্তন পরিচালক, কমিটির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি