মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যয়সঙ্কোচনে মরিয়া ক্রেতারা এখন পেট্রোলচালিত গাড়ির বিকল্প হিসেবে শোরুমগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন।
এশীয় দেশগুলো অপরিশোধিত তেলের জন্য আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই জ্বালানি সংকট তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে এই পরিস্থিতি ভিয়েতনামের শীর্ষস্থানীয় ইভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিনফাস্ট (VinFast) এবং চীনের গাড়ি নির্মাতাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ বহুগুণ বেড়েছে।
ভিয়েতনামের ভিনফাস্ট শোরুমে আসা ক্রেতা দো থি ল্যান জানান, তেলের পেছনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে তাতে সংসারের মাসিক খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তার পরিবারের একটি পেট্রোলচালিত গাড়ি থাকা সত্ত্বেও সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে তারা এখন বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার কথা ভাবছেন। অন্যদিকে স্কুল শিক্ষিকা দাও থি হুয়ে বলেন, খরচের পাশাপাশি ফুয়েলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা এড়াতে ইভি চালানো অনেক বেশি সুবিধাজনক।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভিয়েতনামে গত মার্চ মাসে ভিনফাস্টের বিক্রি ১২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৭,৬০০ গাড়িতে পৌঁছেছে। শোরুমগুলোতে গ্রাহক সমাগম ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে কাজের সময়ও বাড়ানো হয়েছে। ভিয়েতনামের বাইরে থাইল্যান্ড এবং ফিলিপাইনেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ব্যাংকক অটো শো-তে চীনা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি (BYD) প্রথমবারের মতো জাপানের টয়োটাকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ কার্যাদেশ পেয়েছে।
ফিলিপাইনের বিওয়াইডি শোরুম ম্যানেজার মে অ্যান ক্ল্যারিস বলেন, তেলের চড়া দামের কারণে মানুষ দ্রুত বৈদ্যুতিক গাড়িতে স্থানান্তরিত হতে চাইছে। এমনকি অনেক শোরুমে পুরো মাসের স্টক আগাম বুক হয়ে গেছে। থাইল্যান্ডের একজন ফার্মাসিস্ট বলেন, প্রতিদিন গড়ে ১০০ কিলোমিটার পথ গাড়ি চালাতে গিয়ে বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিতে তিনি বৈদ্যুতিক গাড়ি ছাড়া আর কোনো বিকল্প দেখছেন না।
চীনা ইভি নির্মাতারা এখন আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে ১৫ লক্ষ গাড়ি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিওয়াইডি। অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি এই অঞ্চলে চার্জিং স্টেশনের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া এবং সরকারি উদ্যোগও ইভি ব্যবহারের প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করছে। শুধু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া নয়; জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ভারতেও গত মার্চ মাসে বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।