বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: উচ্চ শুল্ক হারের নেতিবাচক প্রভাব এবং ডলার সংকটের কারণে দেশের বাজারে জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই (জানুয়ারি-এপ্রিল) এই খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় কমে গেছে প্রায় ২৫৫ কোটি টাকা। কাস্টমসের কড়াকড়ি এবং এলসি খোলার জটিলতায় আমদানিকারকরা চরম সতর্ক অবস্থানে থাকায় শোরুমগুলোতেও দেখা দিয়েছে রেডি স্টকের তীব্র সংকট।
কাস্টমস ও আমদানিকারক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৪৫ কোটি টাকা। অথচ গত বছরের (২০২৫) একই সময়ে এই আদায়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। মূলত ৮০০% থেকে শুরু করে ক্ষেত্রবিশেষে ২০০০% পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক হারের কারণে আমদানিকারকরা নতুন করে গাড়ি আমদানির সাহস পাচ্ছেন না।
জাপানি অকশন মার্কেটগুলোর বৈশ্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে মোট লেনদেনের প্রায় ৪৪.৩৫% জুড়ে রয়েছে ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী গাড়িগুলো। বাংলাদেশে মূলত এই ক্যাটাগরির (বিশেষ করে ৩ থেকে ৪ বছরের পুরোনো) রিকন্ডিশন্ড গাড়িগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি হলেও উচ্চ শুল্কায়নের কারণে এই গাড়িগুলোই এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ডলারের চড়া মূল্য এবং ব্যাংকে এলসি খোলার কঠোর নিয়মের কারণে এমনিতেই গাড়ি আমদানি অনেক কমে গেছে। তার ওপর কাস্টমসের শুল্ক মূল্যায়ন জটিলতার কারণে খালাস প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে, যার ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে গাড়ি আটকে থেকে ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে আমদানিকারকদের।
রাজধানীর বারিধারা ও উত্তরা এবং চট্টগ্রামের স্থানীয় শোরুমগুলোর কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরবরাহ সংকটের কারণে শোরুমগুলোতে টয়োটা এক্সিও, প্রিমিও, একুয়া কিংবা সি-এইচআর-এর মতো জনপ্রিয় মডেলগুলোর স্টক প্রায় শূন্যের কোঠায়।
একটি অভিজাত শোরুমের ইন-চার্জ ও বিক্রয় নির্বাহী জানান, “আগে যেখানে প্রতি মাসে আমাদের শোরুমে ১৫ থেকে ২০টি নতুন জাপানি গাড়ি আসত, এখন সেখানে ৪-৫টি গাড়ি আনাই কঠিন হয়ে পড়েছে। জাপানের অকশনে ৩-৫ বছরের পুরোনো ফ্রেশ কন্ডিশনের গাড়ি পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত শুল্কের কারণে দেশে এনে সেগুলোর দাম ক্রেতাদের বাজেটের বাইরে চলে যাচ্ছে। একজন সাধারণ ক্রেতা এসে যখন দেখেন একটি মাঝারি মানের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দামও আকাশচুম্বী, তখন তারা ফিরে যাচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে শোরুমের পরিচালন ব্যয় তোলাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।”
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির এই ধারা অব্যাহত থাকলে বছরের বাকি সময়ে রাজস্ব ঘাটতি আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে। দেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্তের জন্য গাড়ির বাজার স্থিতিশীল করতে শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা এবং এলসি জটিলতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।