দৈনন্দিন জীবনের প্রচণ্ড ক্লান্তি কিংবা মানসিক অবসাদকে অনেকেই সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা ভেবে ভুল করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়ের আঙুলে জ্বালাপোড়া, অবশ ভাব বা ঝিমঝিম করার মতো লক্ষণ হতে পারে শরীরের ভেতরে ভিটামিন বি১২-এর মারাত্মক ঘাটতির প্রাথমিক সতর্কবার্তা। রক্ত সঞ্চালন ও স্নায়ুর কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই পুষ্টি উপাদানের অভাবে প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে অন্তত ১ জন দীর্ঘমেয়াদি অবসন্নতায় ভুগে থাকেন।
যুক্তরাজ্যের হার্লে মেডিকেল ফুট অ্যান্ড নেল ক্লিনিকের পডিয়াট্রিস্ট ম্যারিয়ন ইউ জানান, মানবদেহের রক্ত সঞ্চালন ও স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে শেষ প্রান্ত হলো পা। তাই বিপাকীয় প্রক্রিয়া বা রক্ত সঞ্চালনে কোনো ব্যাঘাত ঘটলে তার প্রভাব সবচেয়ে আগে পায়ের দীর্ঘতম স্নায়ু এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গে অনুভূত হয়। ভিটামিন বি১২ মূলত স্নায়ুকোষের চারপাশের সুরক্ষামূলক আস্তরণ ‘মায়েলিন’ তৈরিতে মূল ভূমিকা পালন করে। শরীরে এর পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকলে মায়েলিন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদান ব্যাহত হয়ে পায়ে অসাড়তা বা অস্বস্তি দেখা দেয়।
ভিটামিন বি১২-এর অভাব লোহিত রক্তকণিকার অক্সিজেন বহনের ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। ফলে পায়ের ত্বকের রঙ পরিবর্তন, পা দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা হয়ে থাকা এবং যেকোনো ক্ষত দেরিতে শুকানোর মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সময়মতো এই ঘাটতি শনাক্ত ও চিকিৎসা না করা হলে দীর্ঘমেয়াদে স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতিসহ হৃদযন্ত্রের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পায়ের আঙুলে এমন জ্বালাপোড়া বা অসাড়তার পেছনে কেবল পুষ্টির ঘাটতিই একমাত্র কারণ নাও হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলেও পায়ের আঙুলে একই ধরনের তীব্র অস্বস্তি বা অনুভূতি তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা তাই পায়ে যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করানোর জোর তাগিদ দিয়েছেন। সময়মতো সঠিক পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে এই শারীরিক ঝুঁকি সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।