Home কৃষি কৃষিজমিতে বাড়ি বা কারখানা? যা যা জানা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক

কৃষিজমিতে বাড়ি বা কারখানা? যা যা জানা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক

তৃতীয় পর্ব:

 কৃষিজমি রক্ষা ও পরিকল্পিত ভূমি ব্যবস্থাপনা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী, এখন থেকে চাইলেই যেকোনো কৃষিজমিতে বসতবাড়ি বা বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। আইনের ৮ ও ১০ নম্বর ধারায় কৃষিজমি অকৃষি কাজে ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আপনি যদি আপনার পৈতৃক ভিটায় বা কেনা জমিতে কোনো নতুন স্থাপনা করতে চান, তবে কিছু আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এখন থেকে বাধ্যতামূলক।

অনুমতি ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ

আইনের প্রধান শর্ত হলো—ডিজিটাল জোনিং ম্যাপে যে জমিকে ‘কৃষি অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে কৃষিকাজ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। তবে জীবনযাত্রার প্রয়োজনে বসতবাড়ি বা জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য সীমিত পরিসরে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে, কিন্তু তা অবশ্যই পূর্বানুমতি সাপেক্ষে।

অনুমতি প্রদানের কর্তৃপক্ষ ও প্রক্রিয়া

১. আবেদন প্রক্রিয়া: কৃষিজমিতে ঘরবাড়ি, ধর্মীয় উপাসনালয় বা ক্ষুদ্র কুটির শিল্প স্থাপনের প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট ফরমে জেলা কমিটির কাছে আবেদন করতে হবে। ২. জেলা কমিটির ভূমিকা: জেলা প্রশাসকের (DC) নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি যাচাই করে দেখবে যে, প্রস্তাবিত স্থাপনাটি ওই এলাকার পরিবেশ বা কৃষির ওপর কোনো দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে কি না। ৩. শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন: কমিটি সন্তুষ্ট হলে নির্দিষ্ট শর্তে জমি ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারে। তবে বড় ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা বা কলকারখানার ক্ষেত্রে অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়া হবে আরও কঠোর।

কোন ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় পাওয়া যাবে?

বসতবাড়ি: গ্রামীণ এলাকায় পরিবারের বসবাসের জন্য সীমিত পরিসরে ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা দেখানো হবে, যদি তা কৃষিজমির বড় ধরনের ক্ষতি না করে।

কৃষিভিত্তিক শিল্প: হিমাগার (Cold Storage), ধান কাটার কল বা কৃষি যন্ত্রপাতির গ্যারেজ তৈরির ক্ষেত্রে এই আইন কিছুটা অগ্রাধিকার দেবে, কারণ এগুলো কৃষির সহায়ক।

অনুমতি না নিলে কী হবে?

যদি কেউ জোনিং ম্যাপ অমান্য করে বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কৃষিজমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন, তবে প্রশাসন সেই নির্মাণকাজ বন্ধ করার এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ক্ষমতা রাখে। এছাড়া আর্থিক জরিমানার বিধান তো রয়েছেই।

এই আইনের লক্ষ্য উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়া নয়, বরং উন্নয়নকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। এতে করে যেখানে সেখানে অপরিকল্পিত নগরায়ন বন্ধ হবে এবং চাষের জমি সুরক্ষিত থাকবে।

আগামী পর্বে আমরা আলোচনা করব ইটভাটা এবং কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (Top Soil) কাটা নিয়ে আইনের নতুন ও কঠোর অবস্থান সম্পর্কে।


আমাদের প্রতিবেদনটি সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মতামত জানান। ভিজিট করুন: businesstoday24.com