Home Second Lead ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কা: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে রণপ্রস্তুতি

২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কা: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে রণপ্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দামামা বাজছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই অঞ্চল থেকে মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনী তাদের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।
হামলার সময়সীমা: ইউরোপীয় এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প ইরানকে শিক্ষা দিতে যে কোনো মুহূর্তে আকাশপথে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। আগামী ২৪ ঘণ্টা এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সেনা প্রত্যাহার: কাতারের আল-উদেইদসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনাদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি এড়াতে এই পদক্ষেপ।
মৃত্যুদণ্ড ও বিক্ষোভ: ২৬ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী এরফান সুলতানিকে যেকোনো মুহূর্তে ফাঁসি দেওয়া হতে পারে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। বিক্ষোভে এ পর্যন্ত প্রায় ৩,৪২৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যদিও কোনো কোনো সূত্রের দাবি এই সংখ্যা ১২,০০০ পর্যন্ত হতে পারে।
ইরানের পাল্টা হুমকি: ইরান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ট্রাম্পের ২০২৪ সালের হত্যাচেষ্টার ছবি প্রচার করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, “এবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না।”
কেন এই সংঘাত এবং এর প্রভাব কী হতে পারে?
১. ট্রাম্পের ‘রেড লাইন’ ও বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা
ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া হলে ইরানকে “বড় মূল্য দিতে হবে।” এখন এরফান সুলতানি বা অন্য কারোর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ট্রাম্প যদি হামলা না করেন, তবে বিশ্বমঞ্চে তার হুঁশিয়ারির কোনো গুরুত্ব থাকবে না। ফলে তিনি সীমিত আকারে হলেও একটি ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বা মিসাইল হামলার পথে হাঁটতে পারেন।
২. কৌশলগত সেনা প্রত্যাহার (Tactical Withdrawal)
কাতার থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটছে। বরং এটি একটি যুদ্ধের পূর্বপ্রস্তুতি। আল-উদেইদ ঘাঁটি ইরানের মিসাইল রেঞ্জের মধ্যে থাকায় হামলার আগে নিজের সেনাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিচ্ছে পেন্টাগন, যাতে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিশোধে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়।
৩. রেজভী পাহলভী ও ক্ষমতার রদবদলের ইঙ্গিত
ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভীর বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত শুধু সামরিক হামলা নয়, বরং ইরানের বর্তমান ধর্মীয় সরকারকে হটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক বা রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে।
৪. আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা
যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সরাসরি হামলা চালায়, তবে ইরানও চুপ থাকবে না। তেহরান ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করেছে যে তাদের ভূমি ব্যবহার করে হামলা হলে সেই দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালানো হবে। এতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তুরস্কের মতো দেশগুলোও যুদ্ধের কবলে পড়তে পারে।
 বিশ্ব এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপটি কি কেবল ইরানের পারমাণবিক বা সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এটি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নেবে—তা আগামী কয়েক ঘণ্টাতেই পরিষ্কার হবে।