Home শেয়ারবাজার ডিভিডেন্ড ও আয়ে ধস, তবুও কেন মুন্নু সিরামিকের শেয়ার দরে উল্লম্ফন?

ডিভিডেন্ড ও আয়ে ধস, তবুও কেন মুন্নু সিরামিকের শেয়ার দরে উল্লম্ফন?

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আজ ৬ মে বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে। যদিও শেয়ারটি বাই ভ্যালু এবং বাই ট্রেড টপটেনের শীর্ষে অবস্থান করছে, তবে এর ভেতরের আর্থিক সূচকগুলো একটি নেতিবাচক বা ঝুঁকিপূর্ণ সংকেত দিচ্ছে।
অস্বাভাবিক পি/ই রেশিও (P/E Ratio)
একটি শেয়ারের মূল্যের তুলনায় আয় কতটুকু, তা পি/ই রেশিও দিয়ে বোঝা যায়। সাধারণত ১৫ থেকে ২৫-এর মধ্যে পি/ই থাকা বিনিয়োগের জন্য সহনীয় ধরা হয়। কিন্তু মুন্নু সিরামিকের ক্ষেত্রে:
অডিটেড পি/ই রেশিও: ৪৩১.৮২ (৫ মে ২০২৬ অনুযায়ী)। এর মানে হলো, কোম্পানিটি ১ টাকা আয় করতে বিনিয়োগকারীকে ৪৩১ টাকা খরচ করতে হচ্ছে, যা চরমভাবে ওভারভ্যালুড বা অতিমূল্যায়িত।
আন-অডিটেড পি/ই: ২৯৬.৮৮। এটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং নির্দেশ করে যে শেয়ারটির দাম এর আয়ের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে গেছে।
আয়ের ধারাবাহিকতায় অবনতি (Earnings Decline)
কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (EPS) গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে:
  • ২০২৩ সালে ইপিএস ছিল ২.৯১ টাকা।
  • ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ০.৩৯ টাকায়।
  • ২০২৫ সালে আরও কমে হয়েছে ০.২২ টাকা।
সর্বশেষ কিউ-৩ (Q3 2026): তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ০.০৭ টাকা লোকসান করেছে। গত ৯ মাসে (জুলাই ২৫ – মার্চ ২৬) তাদের মোট ইপিএস মাত্র ০.২৪ টাকা।
 লভ্যাংশের হার ও ইয়েল্ড (Dividend & Yield)
কোম্পানিটির ডিভিডেন্ড দেওয়ার সক্ষমতা কমেছে। ২০২৩ সালে ১০% ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিলেও ২০২৪ সালে ১% এবং ২০২৫ সালে মাত্র ২% ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। বর্তমান বাজার দর (৯৯.৪০ টাকা) অনুযায়ী এর ডিভিডেন্ড ইয়েল্ড খুবই সামান্য (০.২৪%), যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় নয়।
ঋণের বোঝা ও শেয়ার হোল্ডিং
ঋণ: কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী ঋণের পরিমাণ প্রায় ১,২৩৫ মিলিয়ন টাকা। আয়ের তুলনায় ঋণের এই চাপ কোম্পানির ভবিষ্যতের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে।
স্পন্সর শেয়ার: জুন ২০২৫-এ স্পন্সরদের হাতে ৩৭.৪৩% শেয়ার থাকলেও মার্চ ২০২৬-এ তা কমে ৩০.৫৪% এ দাঁড়িয়েছে। স্পন্সর বা পরিচালকদের শেয়ার ছেড়ে দেওয়া সাধারণত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করে।
বাজার প্রবণতা (Market Sentiment)
আজ শেয়ারটির ভলিউম (২১ লক্ষের বেশি) এবং ভ্যালু (২১৮ মিলিয়ন টাকা) অনেক বেশি। ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১০২ টাকা, আর আজ শেয়ারটি সর্বোচ্চ ১০৩.৮০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। যখন আয়ের গ্রাফ নিচের দিকে থাকে কিন্তু শেয়ারের দাম ও ভলিউম হঠাৎ বেড়ে যায়, তখন একে অনেক সময় ‘স্পেকুলেটিভ ট্রেডিং’ বা কারসাজি হিসেবে দেখা হয়।
মুন্নু সিরামিক বর্তমানে লেনদেনের শীর্ষে থাকলেও এর মৌলিক ভিত্তি (Fundamentals) বেশ দুর্বল। অস্বাভাবিক উচ্চ পি/ই রেশিও এবং তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসান শেয়ারটিকে বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ভলিউম দেখে প্রলুব্ধ না হয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা।