বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে চলতি সপ্তাহের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আলিফ গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠান—আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ও আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জেআইটি ইন্টারন্যাশনাল ইনকর্পোরেটেড (JIT International Inc. USA) কর্তৃক এই দুই কোম্পানির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা অধিগ্রহণের খবরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল রয়েছে বাজার।
বাজার চিত্র ও লেনদেনের সর্বশেষ অবস্থা
২৯ এপ্রিলের ধারাবাহিকতায় আজ ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখও ডিএসইতে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে লেনদেন শুরু করে। আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইস ৩০.২০ টাকা থেকে ৯.৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আজ প্রতিটি শেয়ারের দাম ৩৩.২০ টাকায় পৌঁছেছে। লেনদেনের শুরু থেকেই স্ক্রিপ্টটি ‘হল্টেড’ অবস্থায় ছিল, অর্থাৎ বাজারে বিপুল পরিমাণ ক্রয়ের আবেদন থাকলেও কোনো বিক্রেতা ছিল না। আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ক্ষেত্রেও প্রায় একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের মুনাফার আশায় শেয়ার ধরে রেখেছেন।
অধিগ্রহণ ও কৌশলগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট
২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সভায় জানানো হয়, প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে জেআইটি ইন্টারন্যাশনাল আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা অধিগ্রহণ করবে। কোম্পানির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজিমুল ইসলামকে এই টেকওভার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার আইনি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষণ ও বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া
সাধারণত কোনো দেশি উৎপাদনমুখী শিল্পে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সরাসরি বিনিয়োগ বা ব্যবস্থাপনা অধিগ্রহণের খবর কোম্পানির সক্ষমতা ও সুশাসনের ইঙ্গিত দেয়। পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন এই প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তি আলিফ গ্রুপের ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সংযোগ স্থাপনে সহায়ক হবে। এই ইতিবাচক প্রত্যাশার কারণেই বাজারে শেয়ারটির চাহিদার বিপরীতে বিক্রেতা শূন্য হয়ে পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, বিদেশি ব্যবস্থাপনায় আসার পর কোম্পানির লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা এবং শেয়ারের প্রকৃত মূল্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
যদিও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত ইতিবাচক, তবে এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি (BSEC) এবং অন্যান্য দাপ্তরিক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। তাই বিনিয়োগকারীদের এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং কোম্পানির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা প্রয়োজন।
পুঁজিবাজারের গভীর বিশ্লেষণ জানতে ভিজিট করুন www.businesstoday24.com।










