Home আকাশ পথ লঙ্কান ইতিহাসে বৃহত্তম মাদক চালান, ২২বৌদ্ধ সন্ন্যাসী আটক

লঙ্কান ইতিহাসে বৃহত্তম মাদক চালান, ২২বৌদ্ধ সন্ন্যাসী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
শ্রীলঙ্কার কলম্বোস্থ বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রবিবার এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো। মাদক পাচারের সন্দেহে গেরুয়া বসনধারী ২২ জন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীকে ঘিরে ফেলেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এটি এই বিমানবন্দরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মাদক জব্দের ঘটনা এবং শ্রীলঙ্কায় সন্ন্যাসীদের মাদক সংশ্লিষ্টতায় গ্রেফতার হওয়ার প্রথম নজির।
তদন্তকারীরা সন্ন্যাসীদের সাথে থাকা লাগেজগুলো তল্লাশি করলে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা দ্বিগুণ স্তরবিশিষ্ট ব্যাগের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক বেরিয়ে আসে। ব্যাগের বাইরের অংশে ক্যান্ডি এবং শিক্ষা উপকরণ দিয়ে ছদ্মবেশ তৈরি করা হয়েছিল।
জব্দকৃত মাদকের মধ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গাঁজার স্ট্রেইন ‘কুশ’ এবং হাশিশ রয়েছে, যার মোট ওজন ১১০ কেজি। প্রতি সন্ন্যাসীর কাছে প্রায় ৫ কেজি করে মাদক পাওয়া যায়। এই মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ১১০ কোটি শ্রীলঙ্কান রুপি।
পুলিশি তদন্তে বলা হয়,  জনৈক ব্যবসায়ীর দেওয়া বিমান টিকিটে এই সন্ন্যাসীরা ব্যাংকক গিয়েছিলেন। সেই ব্যবসায়ীকে ২৩তম সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। আটক সন্ন্যাসীরা দাবি করেন যে, ওই ব্যবসায়ী তাদেরকে এই বলে প্রতারিত করেছিলেন যে— ব্যাগের ভেতর অনুদানের সামগ্রী রয়েছে যা স্থানীয়ভাবে ট্রাক মারফত সংগ্রহ করা হবে। সন্ন্যাসীরা প্রকৃতপক্ষে ব্যাগের ভেতরের মাদক সম্পর্কে জানতেন কি না, তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখছেন। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত সন্ন্যাসীদের আগামী  ২ মে পর্যন্ত রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
২,৫০০ বছরের বৌদ্ধ ঐতিহ্যবাহী শ্রীলঙ্কায় এই ঘটনা তীব্র সামাজিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী বৌদ্ধ ধর্মকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয় এবং জনসংখ্যার ৭০ শতাংশেরও বেশি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। সেখানে সন্ন্যাসীরা কেবল ধর্মীয় ব্যক্তিত্বই নন, বরং জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতীক।
এই পরিস্থিতিতে শীর্ষ মঠাধিকারীগণ অভিযুক্তদের ‘সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশী অপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার জননিরাপত্তা মন্ত্রী আনন্দ উইজেপালা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, অপরাধের ক্ষেত্রে পদের তোয়াক্কা না করে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে।
শ্রীলঙ্কায় সন্ন্যাসীদের আদালত বা জেলহাজতে যাওয়ার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। ২০২৩ সালে কালুতারা অঞ্চলে ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২১ বছর বয়সী এক সন্ন্যাসী গ্রেফতার হন। এছাড়া গত বছর গালে অঞ্চলে এক নিউজিল্যান্ডীয় পর্যটককে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক প্রধান সন্ন্যাসীকে আটক করা হয়। এমনকি কট্টরপন্থী বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী নেতা গালাগোদা আত্তে জ্ঞানসারাকে ঘৃণ্য বক্তব্য এবং আদালত অবমাননার দায়ে সাজা পেতে হয়েছিল। তবে ২০ জনেরও বেশি সন্ন্যাসীর একটি পুরো দল এভাবে সুসংগঠিত অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা দেশটির ইতিহাসে প্রথম।

আরও আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন। এ ঘটনার ব্যাপারে আপনার মতামত কি?