রহস্যের ব্ল্যাকহোল: পর্ব ২
আমিরুল মোমেনিন
১৮৭২ সালের ৫ ডিসেম্বর। আটলান্টিক মহাসাগরের শান্ত বুকে ভাসছে একটি জাহাজ। দূর থেকে ‘দেই গ্রাসিয়া’ নামক অন্য একটি জাহাজের নাবিকরা লক্ষ্য করলেন, জাহাজটি অদ্ভুতভাবে এগোচ্ছে—যেন সেটির কোনো চালক নেই। কৌতূহলী নাবিকরা যখন জাহাজটির কাছে পৌঁছালেন, তারা যা দেখলেন তা আজও সমুদ্র ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি। জাহাজটির নাম ছিল— মেরি সেলেস্ট।
সব আছে, শুধু মানুষ নেই
জাহাজটিতে তল্লাশি চালিয়ে নাবিকরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। জাহাজের ভেতরে থরে থরে সাজানো ছিল ছয় মাসের খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি। নাবিকদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, এমনকি মূল্যবান মালামালও ছিল একদম অক্ষত। কিন্তু পুরো জাহাজে একটি প্রাণীরও অস্তিত্ব ছিল না। ক্যাপ্টেন বেঞ্জামিন ব্রিগস, তার স্ত্রী, শিশুকন্যা এবং সাতজন দক্ষ নাবিক যেন মুহূর্তের মধ্যে শূন্যে মিলিয়ে গেছেন।
কেন এটি একটি অমীমাংসিত ‘ব্ল্যাকহোল’?
১. অক্ষত জাহাজ: যদি জলদস্যুরা আক্রমণ করত, তবে মালামাল লুট হতো। যদি ঝড় আসত, তবে জাহাজের ভেতরে বিশৃঙ্খলা থাকত। কিন্তু সবকিছুই ছিল পরিপাটি।
২. নিখোঁজ লাইফবোট: জাহাজের একমাত্র লাইফবোটটি নিখোঁজ ছিল। ধারণা করা হয়, নাবিকরা কোনো কারণে স্বেচ্ছায় জাহাজ ছেড়েছিলেন। কিন্তু এমন কী ঘটেছিল যে, মাঝ সমুদ্রে নিরাপদ জাহাজ ছেড়ে তারা অনিশ্চিত লাইফবোটে চড়ে বসলেন?
৩. অদৃশ্য হওয়া: লাইফবোটে চড়ে তারা কোথায় গেলেন? কেন কোনো উপকূল বা অন্য কোনো জাহাজের নজরে তারা পড়লেন না? তাদের কোনো চিহ্ন আজ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তদন্তকারীদের মতে, জাহাজে থাকা অ্যালকোহল ভর্তি ড্রাম থেকে গ্যাস লিক করায় বিস্ফোরণের ভয়ে তারা হয়তো সাময়িকভাবে লাইফবোটে নেমেছিলেন, পরে দড় ছিঁড়ে জাহাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। কিন্তু এই থিওরির সপক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। মেরি সেলেস্ট আজও সমুদ্রের এক অমীমাংসিত ব্ল্যাকহোল।
আপনার মত
মেরি সেলেস্টের নাবিকদের অন্তর্ধান নিয়ে আপনার ধারণা কী?
তারা কি কোনো সামুদ্রিক দানব বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েছিলেন?
নাকি এর পেছনে ছিল কোনো অতিপ্রাকৃতিক কারণ যা আজও বিজ্ঞানের অজানা?
বিস্ফোরণের ভয় নাকি অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের বলি হয়েছিলেন তারা?
- আপনার যুক্তি বা থিওরি আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান। ইতিহাসের এই অমীমাংসিত ব্ল্যাকহোল নিয়ে আপনার বিশ্লেষণ হয়তো নতুন কোনো প্রশ্ন তুলে দেবে।
এই ধরনের আরও রোমাঞ্চকর এবং রহস্যময় খবরের আপডেট পেতে ভিজিট করুন www.businesstoday24.com এবং আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করুন।










