Home অন্যান্য ভনক পাণ্ডুলিপি—মানুষের তৈরি নাকি ভিনগ্রহের লিপিসমগ্র?

ভনক পাণ্ডুলিপি—মানুষের তৈরি নাকি ভিনগ্রহের লিপিসমগ্র?

রহস্যের ব্ল্যাকহোল: পর্ব ৪

ফরিদুল আলম
ইতিহাসের পাতায় এমন বহু রহস্য রয়েছে যা সময়ের সাথে সাথে ফিকে হয়ে গেছে। কিন্তু এমন একটি বই যা শত শত বছর ধরে পৃথিবীর তাবড় তাবড় বিজ্ঞানী, ভাষা বিশেষজ্ঞ এবং ক্রিপ্টোগ্রাফারদের (কোড ভাঙার কারিগর) রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে, তার নাম ভনক পাণ্ডুলিপি (Voynich Manuscript)
পঞ্চদশ শতাব্দীতে (১৪০৪-১৪৩৮ সালের মধ্যে) কার্বন ডেটিং অনুযায়ী তৈরি এই হাতে লেখা বইটি যেন এক ভিনগ্রহের দস্তাবেজ, যার একটি অক্ষরও আজ পর্যন্ত কেউ উদ্ধার করতে পারেনি।
ভিনগ্রহের উদ্ভিদ নাকি নিষিদ্ধ বিজ্ঞান?
১৯১২ সালে ইতালির এক প্রাচীন দুর্গ থেকে বইটি আবিষ্কার করেন উইলফ্রিড ভনক নামের এক পোলিশ বই বিক্রেতা। ২৪০ পাতার এই বইটির পাতায় পাতায় রয়েছে অদ্ভুত সব রঙিন ছবি। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিস্ময় লুকিয়ে আছে এর চিত্রাঙ্কনে।
বইটিতে এমন শত শত উদ্ভিদের পুঙ্খানুপুঙ্খ ছবি আঁকা রয়েছে, যার কোনো অস্তিত্ব এই পৃথিবীর বুকে আজ পর্যন্ত কোনো উদ্ভিদবিজ্ঞানী খুঁজে পাননি! এছাড়া রয়েছে অদ্ভুত কিছু জ্যোতির্বিজ্ঞানের নকশা এবং নগ্ন নারীদের অদ্ভুত সব রাসায়নিক নলের মধ্যে স্নান করার বিচিত্র চিত্র।
কেন এটি একটি অমীমাংসিত ‘ব্ল্যাকহোল’?
লিপির গোলকধাঁধা: বইটির ভাষা কোনো চেনা বর্ণমালার সাথে মেলে না। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিশ্বসেরা কোড ব্রেকার থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)—সবাই এর ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি বাম থেকে ডানে লেখা এবং এতে কোনো কাটাকুটি বা সংশোধনের চিহ্ন নেই, যা দেখে মনে হয় লেখক অত্যন্ত সাবলীলভাবে কোনো জীবন্ত ভাষায় এটি লিখেছেন।
পৃথিবীর বাইরের কোনো উদ্ভিদের নকশা?: বইটির উদ্ভিদবিদ্যা বা ‘হারবাল’ সেকশনে আঁকা গাছগুলোর পাতা, শিকড় বা ফুল পৃথিবীর কোনো চেনা প্রজাতির সাথে মেলে না। অনেকে মনে করেন, এগুলো অন্য কোনো গ্রহের উদ্ভিদের ছবি, যা লেখক কোনোভাবে প্রত্যক্ষ করেছিলেন।
মধ্যযুগীয় কোনো রসায়নবিদের প্রতারণা?: একটি তত্ত্ব বলে, এটি হয়তো মধ্যযুগের কোনো চতুর বিজ্ঞানীর তৈরি করা একটি ভুয়ো বই, যা তিনি রাজাদের বোকা বানিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জনের জন্য তৈরি করেছিলেন। কিন্তু কোনো অর্থহীন বইয়ে এত নিখুঁত ব্যাকরণ এবং ভাষার নিয়ম বজায় রাখা কীভাবে সম্ভব, তার কোনো উত্তর মেলেনি।
ভনক পাণ্ডুলিপিটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে অত্যন্ত সুরক্ষিত অবস্থায় রাখা আছে। এটি কি কোনো প্রাচীন বিজ্ঞানীর গোপন ফর্মুলা, কোনো হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার শেষ নিদর্শন, নাকি স্রেফ এক শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ধোঁকাবাজি? এই সত্য আজও মানুষের বুদ্ধিমত্তার বাইরে এক আদিম ব্ল্যাকহোলে বন্দি।