Home গাড়িবাজার অটোমোবাইল বাজারে রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ির জোয়ার

অটোমোবাইল বাজারে রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ির জোয়ার

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বমুখী বাজার পরিস্থিতি এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজারে জাপানি হাইব্রিড মডেলগুলোর আধিপত্য আরও সুসংহত হয়েছে। বিশেষ করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বিলাসবহুল এসইউভি থেকে শুরু করে ফ্যামিলি এমপিভি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই টয়োটা , নিসান  ও হোন্ডার হাইব্রিড সংস্করণের জয়জয়কার দেখা যাচ্ছে।
অটোমোবাইল খাতের ব্যবসায়ীদের মতে, ডলারের বিনিময় হারের অস্থিরতা এবং উচ্চ আমদানি শুল্ক থাকা সত্ত্বেও হাইব্রিড গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয়ী ক্ষমতার কারণে গ্রাহকদের আগ্রহ বিন্দুমাত্র কমেনি।
চট্টগ্রামের বাজারে জনপ্রিয় হাইব্রিড গাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য (২০২৬)
চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক ও শোরুমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়িগুলোর দাম মূলত মডেলের গ্রেড, অকশন শিট, মাইলেজ এবং উৎপাদন বছরের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হচ্ছে। নিচে সাম্প্রতিক বাজারদর তুলে ধরা হলো:
গাড়ির মডেল (২০২৬ বাজারদর)
ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি
মাইলেজ/অবস্থা
আনুমানিক বাজারমূল্য (৳)
Toyota Noah Hybrid S-Z (২০২৩)
১৮০০ সিসি
৭,৩০০ কিমি
৪৬.৫০ লাখ
Toyota Voxy Hybrid S-Z (২০২৩)
১৮০০ সিসি
৪০,০০০ কিমি
৫৬.০০ লাখ
Toyota Aqua (২০২১)
১৫০০ সিসি
ফ্রেশ কন্ডিশন
৯.১৪ – ১৪.০০ লাখ
Toyota Prius (২০২১-২২)
১৮০০ সিসি
ফ্রেশ কন্ডিশন
১৩.৬৭ – ৩৮.০০ লাখ
Honda Vezel eHEV Z (২০২১)
হাইব্রিড
৬০,০০০ কিমি
৩৫.৫০ – ৩৬.৫০ লাখ
(দ্রষ্টব্য: উল্লেখিত মূল্যসমূহ পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর সাথে রেজিস্ট্রেশন ও রোড ট্যাক্স অতিরিক্ত হিসেবে প্রযোজ্য হবে।)
কেন হাইব্রিড গাড়ি বেছে নিচ্ছেন গ্রাহক?
জ্বালানি সাশ্রয়: সাধারণ তেলের ইঞ্জিনের তুলনায় হাইব্রিড গাড়ি অনেক বেশি মাইলেজ প্রদান করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারকারীকে বড় অঙ্কের সাশ্রয় দেয়।
পরিবেশ সচেতনতা: কার্বন নিঃসরণ কম হওয়ায় পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে এটি বিশ্বজুড়েই সমাদৃত।
উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়: হোন্ডার ‘eHEV’ বা টয়োটার নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী হাইব্রিড ইঞ্জিনগুলো আধুনিক ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা ও সর্বোচ্চ আরাম নিশ্চিত করে।
বাজারে চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও আমদানিকারকরা বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছেন:
১. বয়সসীমা বিধি: বর্তমানে বাংলাদেশে গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে ৫ বছরের পুরনো নীতি কার্যকর রয়েছে। ফলে লেটেস্ট প্রযুক্তির গাড়িগুলো আমদানি করা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা মূল্যে।
২. চার্জিং অবকাঠামো: ‘Toyota Prius Prime’ বা প্লাগ-ইন হাইব্রিড (PHV) মডেলগুলোতে বাড়তি ব্যাটারি ও চার্জিং সুবিধা থাকলেও, শহুরে অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কৃতিতে নিজস্ব চার্জিং পয়েন্টের অভাব এই মডেলগুলোর প্রসারে একটি বড় বাধা।
৩. আমদানি শুল্ক ও ডলার সংকট: শিপিং খরচ বৃদ্ধি এবং ডলার রেটের অস্থিতিশীলতা সরাসরি গাড়ির আমদানিমূল্যের ওপর প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় হাইব্রিড প্রযুক্তি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য। তবে সরকার যদি হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে শুল্ক কাঠামোতে সহনীয় পরিবর্তন আনে, তবে সাধারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য এই সাশ্রয়ী গাড়িগুলো আরও সহজলভ্য হবে। চট্টগ্রামসহ সারা দেশে হাইব্রিড গাড়ির ব্যাটারি ও পার্টস নিয়ে যে আস্থার সংকট ছিল, দক্ষ সার্ভিস সেন্টারের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে তা এখন দ্রুত কেটে যাচ্ছে।