Home Third Lead পালংখালী সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ: পঙ্গুত্ব বরণ করলেন দুই রোহিঙ্গা যুবক

পালংখালী সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ: পঙ্গুত্ব বরণ করলেন দুই রোহিঙ্গা যুবক

প্রতীকী ছবি
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, কক্সবাজার:  উখিয়া উপজেলার পালংখালী সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আবারও স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ঘটা এই দুর্ঘটনায় মো. ইউনুছ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে একই সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে দুই যুবক পা হারানোয় স্থানীয় বাসিন্দা ও শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আহত ইউনুছ উখিয়ার ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/২ ব্লকের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

 স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পালংখালী সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের চাকমাকাটা এলাকায় মাছ ধরতে বা কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে মাইনের ওপর পা পড়ে ইউনুছের। বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে তাঁর ডান পায়ের গোড়ালি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আশেপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শান্তনু ঘোষ জানান, বিস্ফোরণে যুবকের একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং শরীরজুড়ে গুরুতর জখম রয়েছে। তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পাঁচ দিনে দ্বিতীয় ঘটনা

এর আগে গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) একই এলাকায় একইভাবে মাইন বিস্ফোরণে মো. সাদেক নামে আরও এক রোহিঙ্গা যুবক তাঁর একটি পা হারান। তিনি ১০ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা ছিলেন। পর পর দুটি ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

বিপজ্জনক সীমান্তে কেন যাচ্ছে রোহিঙ্গারা?

বালুখালী আশ্রয় শিবিরের নেতা শামসুল আলম বলেন, “বিশ্বজুড়ে খাদ্য সহায়তা কমে আসায় ক্যাম্পের পরিবারগুলো তীব্র অর্থকষ্টে ভুগছে। এই অভাবের কারণেই জীবনের ঝুঁকি জেনেও জেলেরা নাফ নদী বা সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে মাছ ধরতে ও জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাচ্ছে। আর সেখানেই তারা মিয়ানমার বাহিনীর পুঁতে রাখা মাইনের শিকার হচ্ছে।”

বিজিবির সতর্কতা

বিজিবির উখিয়া-৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে স্থলমাইন পুঁতে রাখার বিষয়টি তাঁদের নজরে রয়েছে। এটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, “রোহিঙ্গারা যাতে কোনোভাবেই সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম না করে, সেজন্য বিজিবির পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সীমান্তে টহল জোরদার করার পাশাপাশি পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।”

সীমান্তের এই মাইন আতঙ্ক নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অন্যথায় প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের মিছিল আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও নানা বিষয় জানতে ভিজিট করুন: www.businesstoday24.com

(আমাদের কনটেন্ট সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান এবং ফলো করে সাথেই থাকুন।)