দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মেঘ কাটিয়ে আজ বিশ্ব শেয়ারবাজারে এক অভাবনীয় চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের প্রধান বাজারগুলোতে বিনিয়োগকারীদের সরব উপস্থিতিতে সূচকের বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজকের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচকটি দিনের শুরু থেকেই ছিল ঊর্ধ্বমুখী। দিনশেষে এটি ২.৮৮ শতাংশ পয়েন্ট অর্জন করে ৫৪,২৪৮.৩৯ এ স্থির হয়েছে, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। হংকংয়ের হ্যাং সেং এবং জার্মানির ড্যাক্স (DAX) সূচকও পিছিয়ে নেই; উভয় বাজারেই ২ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।
মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমে আসা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করায় উৎপাদনশীল খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।
ইউরোপীয় বাজারের এই সুবাতাস লেগেছে লন্ডনের এফটিএসই ১০০ এবং ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচকেও। সেখানেও গড়ে ১.৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার নিয়ে নমনীয় অবস্থানের আভাস পাওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বড় অংকের মূলধন বাজারে খাটাচ্ছেন।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে আজ কিছুটা সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। যদিও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং ডাও জোনস সূচক ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করেছে, তবে বিনিয়োগকারীদের মূল নজর এখন আজ প্রকাশিতব্য কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা সিপিআই রিপোর্টের দিকে। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের বাজার পরিস্থিতি এবং সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারিত হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার বাজারেও আজ সবুজের সমারোহ ছিল। ভারতের সেনসেক্স সূচকটি প্রায় ০.৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৮ হাজার পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করেছে। সব মিলিয়ে আজকের দিনটি বিশ্বজুড়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। তবে বাজারের এই ধারা কতদিন স্থায়ী হয়, তা নির্ভর করছে সামনের দিনগুলোতে দেশগুলোর সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিমালার ওপর।