Home আন্তর্জাতিক ইয়াঙ্গুনে মার্কিন কূটনীতিকের রহস্যমৃত্যু: থাই স্ত্রী রিমান্ডে

ইয়াঙ্গুনে মার্কিন কূটনীতিকের রহস্যমৃত্যু: থাই স্ত্রী রিমান্ডে

সাকুরা রেসিডেন্স
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে মার্কিন দূতাবাসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া থাই নাগরিককে মিয়ানমারের একটি স্থানীয় আদালত রিমান্ডে পাঠিয়েছে। একই সাথে প্রাথমিক তদন্তে ওই কর্মকর্তা ও আটক নারীর সম্পর্কের বিষয়ে নতুন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রের সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনটি নিচে উপস্থাপন করা হলো:
ঘটনার বিবরণ ও নতুন মোড়
গত ১১ মে ইয়াঙ্গুনের মর্যাদাপূর্ণ গোল্ডেন ভ্যালি এলাকায় অবস্থিত ‘সাকুরা রেসিডেন্স অ্যান্ড হোটেল’ থেকে ৪৩ বছর বয়সী ওই মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত কর্মকর্তার মাথায় ও ঘাড়ে গভীর ক্ষত বা আঘাতের চিহ্ন ছিল।
অনলাইনে প্রকাশিত মার্কিন দূতাবাসের একটি স্মরণসভার তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি নিউইয়র্ক স্টেটের বাসিন্দা ছিলেন এবং ইয়াঙ্গুন দূতাবাসে ‘রিলিজিয়ন সিকিউরিটি অফিসার’ বা আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য
মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং পুলিশ প্রশাসনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ৩৮ বছর বয়সী থাই নারী আসলে অন্য কেউ নন, তিনি নিহত মার্কিন কর্মকর্তার স্ত্রী ছিলেন।
প্রাথমিক তদন্ত ও হোটেলের তথ্যানুযায়ী, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ওই মার্কিন কর্মকর্তা তাঁর অ্যাপার্টমেন্টের ব্যালকনি থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেই সময় হোটেলের কর্মচারীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাঁকে রক্ষা করতে সক্ষম হন। এর ঠিক কিছু সময় পর ওই নারী নিজেই হোটেলের অভ্যর্থনা ডেস্কে (রিসেপশন) এসে জানান যে তাঁর স্বামী গুরুতর আহত এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স ডাকার জন্য অনুরোধ করেন। হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্র এটিকে একটি ‘সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড’ (Homicide) হিসেবে নথিভুক্ত করে ওই নারীকে কক্ষ থেকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতের সর্বশেষ পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক নীরবতা
ইয়াঙ্গুনের কামায়ুত টাউনশিপ কোর্টে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আটক থাই নারীকে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে (রিমান্ড) পাঠানোর নির্দেশ দেন। মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে বিচার ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর ও গোপন রাখায় তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী কী ধারা বা অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
এই স্পর্শকাতর ঘটনার বিষয়ে ব্যাংককে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটি একটি চলমান পুলিশি তদন্ত এবং বিষয়টিকে তারা আইনি ও কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেখছেন। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) মৃত্যুর বিষয়টি পুনর্বার নিশ্চিত করলেও পরিবারের গোপনীয়তার স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য বা বিবৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকা একজন শীর্ষ মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তার এই ধরনের মৃত্যুর ঘটনাটি মিয়ানমারের জান্তা প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক ও সমসাময়িক খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে Visit www.businesstoday24.com