Home কলকাতা অস্তিত্বের শেষ প্রান্তে ১২৫ বছরের কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জ

অস্তিত্বের শেষ প্রান্তে ১২৫ বছরের কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জ

সেবি’র কাছে স্বেচ্ছায় বিদায়ের আবেদন
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, কলকাতা: এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন এবং একসময়ের ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম পুঁজিবাজার কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) অবশেষে তার গৌরবময় অধ্যায়ের চূড়ান্ত সমাপ্তির পথে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসায়িক স্থবিরতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর বিধিনিষেধের পর, লায়ন্স রেঞ্জের এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটি স্টক এক্সচেঞ্জ ব্যবসা থেকে পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
বাজার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ ভারতের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI)-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বেচ্ছায় ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার (Voluntary Exit Request) আবেদন জমা দেয়। বর্তমানে সেবি এই আবেদনটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে। এই বিদায়কালীন প্রক্রিয়াটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি একটি বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে। একই সাথে এক্সচেঞ্জের মোট সম্পত্তি, আর্থিক দায় এবং নেট ওয়ার্থের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের জন্য একটি স্বাধীন মূল্যায়নকারী সংস্থাকেও (Independent Valuation Agency) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সিএসই-র এই চূড়ান্ত পতনের সূত্রপাত ঘটেছিল ২০০১ সালে কুখ্যাত স্টক ব্রোকার কেতন পারেখের বিশাল শেয়ার কেলেঙ্কারির মাধ্যমে। সেই আর্থিক জালিয়াতির ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে সেবি-র নির্দেশে সিএসই-র নিজস্ব আধুনিক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ‘সি-স্টার’ (C-STAR) সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর নিজস্ব ক্লিয়ারিং কর্পোরেশন গঠনে ব্যর্থতা এবং সেবি-র কঠোর শর্ত পূরণ করতে না পারায় নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে আর কখনোই লেনদেন শুরু করতে পারেনি এই এক্সচেঞ্জটি। তবে গত কয়েক বছর ধরে সিকিউরিটিজ চুক্তি নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে সিএসই-র ব্রোকাররা ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE) এবং বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE)-এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে লেনদেন চালিয়ে আসছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটির বিদায় ঘণ্টা বাজার সাথে সাথে এতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যেও গণ-ডিলিস্টিংয়ের (নাম প্রত্যাহার) ধুম পড়েছে। গত বছরের নভেম্বর মাসে আইটিসি (ITC)-র মতো ভারতের শীর্ষস্থানীয় জায়ান্ট কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে নিজেদের স্বেচ্ছায় ডিলিস্ট করে নেয়। বর্তমানে এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত অসংখ্য ছোট-বড় কোম্পানিকে তাদের তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, কার্ব মার্কেট কেলেঙ্কারি এবং এনএসই-বিএসই-র একচেটিয়া আধিপত্যের যুগে কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী আঞ্চলিক এক্সচেঞ্জটি তার প্রাসঙ্গিকতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছে। সেবি-র চূড়ান্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর যেকোনো দিন সিএসই-র বাণিজ্যিক লাইসেন্স আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হতে পারে। আর এর মাধ্যমেই ভারতের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে ১২৫ বছরেরও বেশি পুরোনো একটি গৌরবময় অধ্যায়ের চিরতরে অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
Visit www.businesstoday24.com