হেলথ ডেস্ক: দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের (সিকেডি) ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। হো চি মিন সিটির তাম আন জেনারেল হাসপাতালের পুষ্টি ও ডায়েটিক্স বিভাগের প্রধান ডা. দাও থি ইয়েন থুইয়ের মতে, কিডনি রোগীদের পটাশিয়াম, সোডিয়াম এবং ফসফরাস গ্রহণের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। কিডনির ওপর চাপ কমাতে এবং কার্যকারিতা বজায় রাখতে তিনি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার সমৃদ্ধ ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
কিডনির জন্য উপকারী ৫টি ফল
১. আপেল: আপেলে কোনো সোডিয়াম নেই এবং এটি পেকটিন নামক দ্রবণীয় ফাইবারে ভরপুর। এটি কোলেস্টেরল কমাতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে কিডনিকে সুরক্ষিত রাখে।
২. ব্লুবেরি: এতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কিডনি কোষকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এটি ভিটামিন সি এবং ফাইবার সমৃদ্ধ হলেও এতে পটাশিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রা বেশ কম।
৩. স্ট্রবেরি: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং প্রদাহ কমাতে স্ট্রবেরি অতুলনীয়। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ ও ভিটামিন সি কিডনির কার্যকারিতা উন্নত করে। স্বল্প মাত্রার পটাশিয়াম ও সোডিয়াম থাকায় এটি কিডনি রোগীদের জন্য নিরাপদ।
৪. চেরি: চেরি ফলে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করে। পটাশিয়াম ও ফসফরাস কম থাকায় এটি কিডনি সুরক্ষায় একটি সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প।
৫. নাশপাতি: নাশপাতিতে প্রচুর পরিমাণে জলীয় অংশ ও দ্রবণীয় ফাইবার থাকে যা হজমে সহায়তা করে। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কিডনি কোষকে অক্সিডেটিভ ড্যামেজ থেকে রক্ষা করে।
বিশেষ সতর্কতা ও পরামর্শ
ডা. থুই কিডনি রোগীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন:
বর্জনীয় ফল: কলা, কমলা, পাকা আম এবং অ্যাভোকাডোর মতো উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত ফল এড়িয়ে চলতে হবে।
লবণ নিয়ন্ত্রণ: লবণ, কড়া মশলা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করা জরুরি।
খাবার খাওয়ার নিয়ম: একবারে বেশি না খেয়ে সারাদিনে অল্প অল্প করে বারবার খাবার গ্রহণ করা উচিত।
পানির পরিমাণ: শরীরের অবস্থা বুঝে সঠিক পরিমাণে পানি পান করতে হবে—অতিরিক্ত পানি পান করলে যেমন ফোলাভাব হতে পারে, তেমনি কম পানি পান করলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি থাকে।
কিডনির বর্তমান অবস্থা এবং ইলেক্ট্রোলাইটের মাত্রা বোঝার জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা আবশ্যক। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ ফল খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।