বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের স্থবিরতা কাটিয়ে ২০২৬ সালের শুরু থেকেই বৈশ্বিক জাহাজ ভাঙা শিল্পে কন্টেইনার জাহাজের আধিপত্য একচেটিয়া। আন্তর্জাতিক শিপিং বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী জাহাজগুলোই ভাঙার তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
এই পরিস্থিতির পেছনে প্রধান কারণ নতুন ও আধুনিক জাহাজের রেকর্ড সরবরাহ। গত দুই বছরে বৈশ্বিক শিপিং লাইনগুলো বিপুল সংখ্যক নতুন কন্টেইনার জাহাজের অর্ডার দিয়েছিল। চলতি মে মাসে সেই জাহাজগুলোর ডেলিভারি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন জাহাজগুলোর বিশাল ধারণক্ষমতা। আগের তুলনায় অনেক বেশি কন্টেইনার (TEU) বহন করতে সক্ষম। আধুনিক এই জাহাজগুলোতে উন্নত ইঞ্জিন ও নেভিগেশন প্রযুক্তি থাকায় এগুলো অনেক কম জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং দ্রুতগামী।
নতুন বিশাল জাহাজগুলো বহরে যুক্ত করতে হলে পুরনো এবং অলাভজনক জাহাজগুলোকে সরিয়ে ফেলার কোনো বিকল্প নেই।
শিপিং সেক্টরকে কার্বনমুক্ত করতে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO) এবং হংকং কনভেনশন (HKC) এখন আরও কঠোর। ২০-২৫ বছরের পুরনো জাহাজগুলো আধুনিক নির্গমন মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না। পুরনো জাহাজে কার্বন ট্যাক্স এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক বেশি হওয়ায় মালিকরা এগুলো চালানোর চেয়ে ‘গ্রিন শিপ রিসাইক্লিং’ ইয়ার্ডে বিক্রি করে দেওয়াকে লাভজনক মনে করছেন।
লজিস্টিক বাজারে বর্তমানে জাহাজের সক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। বাজারে জাহাজের সংখ্যা বেশি হওয়ায় কন্টেইনার পরিবহনের ভাড়ার হার (Freight Rates) কমতে শুরু করেছে। পুরনো জাহাজগুলো বেশি জ্বালানি খরচ করে কম ভাড়া পায়, যা শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে তারা দ্রুত এগুলোকে স্ক্র্যাপ করে দিচ্ছে।
স্ক্র্যাপ বাজারের চিত্র: বাংলাদেশ ও ভারত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এবং ভারতের আলং-এর ইয়ার্ডগুলোতে বর্তমানে এই পুরনো কন্টেইনার জাহাজগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কন্টেইনার জাহাজ থেকে প্রাপ্ত উচ্চমানের স্টিল প্লেটের দাম বাজারে ভালো থাকায় আমদানিকারকরা বড় অংকের এলডিটি (LDT) মূল্যে এগুলো কিনছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আরও প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি বড় কন্টেইনার জাহাজ স্ক্র্যাপের তালিকায় যুক্ত হতে পারে।
২০২৬ সালকে ধরা হচ্ছে কন্টেইনার শিপ রিসাইক্লিং-এর জন্য একটি ‘সংশোধনমূলক বছর’। পুরনো প্রযুক্তির বিদায় এবং পরিবেশবান্ধব নতুন প্রজন্মের জাহাজের আগমনে বিশ্ব শিপিং খাত এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে।