Home Second Lead ইসিতেও বৈধ আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা: ফেনী-৩ আসনে বাড়ছে ভোটের উত্তাপ

ইসিতেও বৈধ আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা: ফেনী-৩ আসনে বাড়ছে ভোটের উত্তাপ

আবদুল আউয়াল মিন্টু
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ফেনী: সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচন কমিশনেও (ইসি) বৈধতা পেলেন ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বিশিষ্ট শিল্পপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ফুল কমিশনের আপিল শুনানি শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এর ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট যুদ্ধে নামতে মিন্টুর সামনে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
অভিযোগ ও আইনি লড়াই
এর আগে, গত ৯ জানুয়ারি মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন একই আসনের জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক। অভিযোগে বলা হয়েছিল, মিন্টু মার্কিন নাগরিকত্ব বহাল রেখেই হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিষয়গুলো আড়াল করেছেন।
এই আপিলে ফেনী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হককেও বিবাদী করা হয়েছিল। তবে কমিশন শুনানি শেষে জামায়াত প্রার্থীর সেই আবেদন খারিজ করে মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল রাখে।
রাজপথে আনন্দের জোয়ার
ইসির এই সিদ্ধান্তের খবর নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছালে দাগনভূঞা ও সোনাগাজীতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে।
দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আকবর হোসেন বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং সত্যের জয় হয়েছে। ধানের শীষের পক্ষে এলাকায় গণজোয়ার সৃষ্টি হবে।” একই সুর সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সভাপতি খুরশিদ আলম ভূঁঞার কণ্ঠেও। তিনি বলেন, “দলমত নির্বিশেষে মানুষ আজ একাট্টা। ধানের শীষের বিজয়ে এবার ভোটাররা মুখিয়ে আছে।”
ভোটের সমীকরণ ও চ্যালেঞ্জ
আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রার্থী হওয়ায় এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণ অনেকটাই পাল্টে গেছে। স্থানীয়দের মতে, আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশের ভোটও এবার ধানের শীষের বাক্সে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে মাঠের লড়াই অতটা সহজ হবে না। জামায়াত প্রার্থী ফখরুদ্দিন মানিক দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় গণসংযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন।
জামায়াতের অভ্যন্তরীণ ঐক্য যেখানে সুসংহত, সেখানে বিএনপি’র ভেতর এখনো ইউনিয়ন কমিটি গঠন নিয়ে কিছুটা বিভেদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দাগনভূঞার ঐতিহাসিক সুযোগ
ফেনী-৩ আসনে এর আগে কোনো দল থেকেই এমন হেভিওয়েট প্রার্থী দেখা যায়নি। মজার বিষয় হলো, প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মিন্টু ও মানিক—উভয়ই দাগনভূঞা উপজেলার বাসিন্দা। ফলে দল যারই হোক, এবার প্রথমবারের মতো দাগনভূঞা উপজেলা থেকে কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন—এমন প্রত্যাশায় উজ্জীবিত স্থানীয় সাধারণ ভোটাররা।