Home আন্তর্জাতিক ইসলামাবাদ সংলাপ: শেষ মুহূর্তে ইরানের অস্বীকৃতি ও অনিশ্চয়তার মুখে সমঝোতা

ইসলামাবাদ সংলাপ: শেষ মুহূর্তে ইরানের অস্বীকৃতি ও অনিশ্চয়তার মুখে সমঝোতা

বিশেষ প্রতিনিধি, ইসলামাবাদ: ইরান আজ সোমবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় দফার সংলাপে অংশ নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল ঘোষণা করেছিলেন যে একটি আমেরিকান প্রতিনিধি দল (যাতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার থাকতে পারেন) আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছেন, তবে ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার পরিবেশ নেই বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের অস্বীকৃতির প্রধান কারণসমূহ
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম (IRNA) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মূলত তিনটি কারণে তারা এই আলোচনা বর্জন করছে:
  • নৌ-অবরোধ: পারস্য উপসাগরে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধকে তেহরান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে মনে করছে। গতকাল ‘তুসকা’ (Touska) নামক একটি ইরানি কার্গো জাহাজ মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক জব্দ হওয়ার ঘটনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
  • অযৌক্তিক দাবি: যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাখা শর্ত এবং ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তনকে ইরান “অত্যধিক দাবি” ও “অবাস্তব প্রত্যাশা” হিসেবে অভিহিত করেছে।
  • হরমুজ প্রণালী ইস্যু: ইরান স্পষ্ট করেছে যে, যতক্ষণ না আমেরিকা তাদের বন্দর থেকে অবরোধ তুলে নিচ্ছে, ততক্ষণ তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক অনুমতি দেবে না।
সংঘাতের ঝুঁকি ও সময়সীমা
বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী বুধবার (২২ এপ্রিল) শেষ হতে যাচ্ছে। পাকিস্তান এই যুদ্ধবিরতি আরও ৪৫ দিন বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ট্রাম্প প্রশাসন তা বাড়াতে আগ্রহী নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।
সার্বিকভাবে, ইসলামাবাদ সংলাপ বর্তমানে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট কূটনৈতিক সমাধানের চেয়ে সামরিক উত্তেজনার দিকেই বেশি মোড় নিচ্ছে।