বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: দেশের সিংহভাগ রাজস্ব আসে যে অঞ্চল থেকে, যেখানে তৈরি পোশাক, ইস্পাত, সিমেন্ট, জাহাজ পুনর্প্রক্রিয়াজাতকরণসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ভারী শিল্পগুলো অবস্থিত—সেই বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের বছরের পর বছর ধরে এক অদ্ভুত বৈষম্য ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কর, ভ্যাট কিংবা কাস্টমস সংক্রান্ত যেকোনো আইনি বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য রাজধানীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর আপিলাত ট্রাইব্যুনালে দৌড়াতে হয় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের।
অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনা করে চট্টগ্রামে এনবিআর-এর একটি স্থায়ী আপিলাত ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ স্থাপন এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
জাতীয় আয়ের সিংহভাগ জোগান দেয় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস এবং চট্টগ্রামের একাধিক ভ্যাট ও আয়কর জোন। স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসার পরিধি বড় হওয়ায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের কর নির্ধারণ বা শুল্কায়ন নিয়ে ব্যবসায়ীদের বিরোধের সংখ্যাও এখানে সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর চট্টগ্রাম অঞ্চলের হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সংক্রান্ত মামলা ঢাকায় ফাইল হচ্ছে, যা রাজধানীতে মামলাজট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ছোট-বড় যেকোনো ভ্যাট বা কাস্টমস বিরোধের শুনানির জন্য চট্টগ্রামের একজন উদ্যোক্তাকে আইনজীবী, প্যানেল এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে ঢাকায় গিয়ে দিনের পর দিন অবস্থান করতে হয়। অনেক সময় শুনানির তারিখ পিছিয়ে গেলে খরচ ও হয়রানি দ্বিগুণ হয়ে যায়। এতে ব্যবসায় পরিচালন ব্যয় অনর্থক বেড়ে যাচ্ছে।
পণ্য খালাস বা কর দাবির বিরোধ নিয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলা চললে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসায়ীদের মূলধন বা ব্যাংক গ্যারান্টি আটকে থাকে। চট্টগ্রামে ট্রাইব্যুনাল থাকলে স্থানীয়ভাবে দ্রুত শুনানি শেষ করে শিল্পকারখানা ও আমদানিকৃত কাঁচামাল সচল রাখা সম্ভব হতো, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলত।
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো, বিশেষ করে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) এবং বিভিন্ন খাতের শিল্প মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে এনবিআর-এর এই বিশেষায়িত আদালতের একটি স্থায়ী বেঞ্চ চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, সরকার চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কর্ণফুলী টানেল, বে-টার্মিনাল ও গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু বাণিজ্যিক পরিবেশ সহজ করার জন্য যে আইনি ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন, তা এখনো উপেক্ষিত রয়ে গেছে। চট্টগ্রামে ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করলে সরকারের রাজস্ব আদায়ের গতি যেমন বাড়বে, তেমনি করদাতাদের আস্থা ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজ হবে।
জাতীয় অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক মর্যাদার উপযুক্ত মূল্যায়নে অনতিবিলম্বে এখানে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট এবং কর আপিলাত ট্রাইব্যুনালের স্থায়ী কার্যালয় বা সার্কিট বেঞ্চ স্থাপন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।










