বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: নতুন বছরের শুরুতে রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়বে নাকি কমবে, সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আজ। সৌদি আরামকোর কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) অনুযায়ী আজ রোববার বিকেল ৩টায় জানুয়ারি মাসের নতুন দাম ঘোষণা করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
তবে কমিশনের এই ঘোষণার আগেই বাজারের ‘ভয়াবহ অরাজকতা’ আর ‘সিন্ডিকেটের কারসাজি’তে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। ভোক্তাদের এখন একটাই প্রশ্ন—বিইআরসি কি শুধু কাগজে-কলমে দাম নির্ধারণ করবে, নাকি মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়নে কঠোর হবে?
ঘোষিত দামের চেয়ে ৫০% বেশি টাকা গুনছে সাধারণ মানুষ
বিইআরসি সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। রাজধানীর রামপুরা, মুগদা ও মোহাম্মদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে এই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ, সরকারি দামের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বা ৬০০-৮০০ টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস কিনতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহককে।
বাজারে এখন এলপিজি নিয়ে চলছে কৃত্রিম হাহাকার। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আমদানিকারক, ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতা—এই তিন স্তরেই চলছে লুটপাট। বিশেষ করে ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ে সরবরাহ ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে সবচেয়ে বেশি দাম বাড়ানো হচ্ছে।
রসিদ জালিয়াতি: বিক্রেতারা বাড়তি দাম নিলেও কোনো ক্রয় রসিদ দিচ্ছেন না। ফলে ভুক্তভোগীরা আইনি প্রতিকার পাওয়ার প্রমাণও রাখতে পারছেন না।
অপারেটরদের কারসাজি: অনেক অপারেটর কোম্পানি চাহিদার তুলনায় মাত্র ৩০-৪০ শতাংশ সিলিন্ডার সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ব্যবসায়ীরা জাহাজ সংকট এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার দোহাই দিয়ে আমদানি কমার কথা বললেও বাজার বিশ্লেষকরা একে ‘সুযোগসন্ধানী আচরণ’ বলছেন। শীতে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ার এই সুযোগটি নিচ্ছে একদল মজুতদার ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
ভোক্তারা যা বলছেন: “ঘোষণা নয়, বাস্তবায়ন চাই”
নতুন দাম ঘোষণার প্রাক্কালে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা গৃহিণী শায়লা বেগম বলেন,
“সরকার কত দাম কমালো বা বাড়ালো তাতে আমাদের কিছু আসে যায় না, যদি বাজারে গিয়ে বাড়তি দামই দিতে হয়। আমরা চাই বিইআরসি নির্ধারিত দামে গ্যাস কেনার নিশ্চয়তা।”
ভোক্তা অধিকার কর্মীদের মতে, বিইআরসি প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করলেও বাজার মনিটরিংয়ে তাদের ভূমিকা নগণ্য। মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকি এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা না করলে আজকের নতুন ঘোষণা কেবল ‘কাগজের দলিলে’ সীমাবদ্ধ থাকবে।
আজকের ঘোষণার দিকে তাকিয়ে দেশ
আজ রোববার বিকেল ৩টায় জানা যাবে নতুন বছরের প্রথম মাসের নির্ধারিত দাম। তবে এই দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়ার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সিন্ডিকেট ভাঙা। বিইআরসি কি পারবে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস থেকে মুক্তি দিতে, নাকি সিন্ডিকেটের রাজত্বই বহাল থাকবে—এটাই এখন দেখার বিষয়।










