Home Third Lead উত্তপ্ত সংসদ: রাষ্ট্রপতির ভাষণের শুরুতেই জামায়াতসহ বিরোধী জোটের ওয়াকআউট

উত্তপ্ত সংসদ: রাষ্ট্রপতির ভাষণের শুরুতেই জামায়াতসহ বিরোধী জোটের ওয়াকআউট

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পথচলা শুরু হলো এক নজিরবিহীন নাটকীয়তা আর প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। আজ বৃহস্পতিবার অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে সংসদ কক্ষ। ফ্যাসিবাদবিরোধী স্লোগান আর প্ল্যাকার্ড হাতে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটভুক্ত ১১ দলের সংসদ সদস্যরা।
অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ যখন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার আহ্বান জানান, ঠিক তখনই বিরোধী বেঞ্চগুলো থেকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে যান। তাদের হাতে ছিল ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড।
স্পিকার বারবার সংসদ সদস্যদের ধৈর্য ধারণ করার এবং রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শোনার অনুরোধ জানালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং হট্টগোল ও উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকে।
বিরোধীদের মূল দাবি ও আপত্তি
বিরোধী দলগুলোর আপত্তির মূলে রয়েছেন খোদ রাষ্ট্রপতি। তাদের অভিযোগ ও দাবিগুলো ছিল স্পষ্ট:
অভিশংসন ও গ্রেপ্তার: বিরোধী দলগুলো আগে থেকেই বর্তমান রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ও তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আসছিল।
ফ্যাসিবাদ বিরোধিতা: তাদের দাবি, বর্তমান রাষ্ট্রপতির অধীনে সংসদীয় কার্যক্রমের সূচনা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
সাংবিধানিক পেক্ষাপট: যদিও প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, তবে বিরোধীরা একে রাজনৈতিকভাবে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয়।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যখন ভাষণ শুরু করেন, তখন বিরোধী সদস্যরা বসে না থেকে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ১১ দলীয় জোটের সকল সংসদ সদস্য একযোগে সংসদ কক্ষ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন। ফলে উদ্বোধনী অধিবেশনেই এক ধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা বা উত্তেজনার আভাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনেই এই ধরণের শক্ত অবস্থান জানান দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে সংসদীয় বিতর্ক এবং সরকারি-বিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে।