চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) হাত ধরে দেশে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার কেবল শেয়ার বা ইকুইটি-কেন্দ্রিক হওয়ায় পণ্যের বৈচিত্র্য ও বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগের অভাব ছিল। সেই ঘাটতি মেটাতে এবং বিশ্বমানের আধুনিক ট্রেডিং ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সিএসই। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো ও কারিগরি আয়োজন শেষ হলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিষয়টি এখন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিবেচনার অপেক্ষায় রয়েছে।
কমোডিটি এক্সচেঞ্জে সরাসরি সঙ্গে সঙ্গে পণ্য হাতবদল বা হস্তান্তরের বদলে মূলত ‘ফিউচারস কন্ট্রাক্ট’ বা ফিউচার চুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন পরিচালিত হয়। প্রাথমিক ধাপে আন্তর্জাতিক বাজারে সহজলভ্য ও সহজে মূল্য যাচাইযোগ্য পণ্য—যেমন সোনা, রুপা ও পাম তেল দিয়ে এই লেনদেন শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পণ্যের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদি চুক্তি থাকবে। আন্তর্জাতিক সূচকের ওপর নির্ভর করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম নির্ধারিত হওয়ায় কৃত্রিমভাবে দর বাড়ানো বা বাজার সিন্ডিকেশনের সুযোগ থাকবে না। চুক্তি মেয়াদ শেষে ফিজিক্যাল পণ্য বহনের বদলে ‘ক্যাশ সেটেলমেন্ট’ করা হবে; অর্থাৎ মেয়াদের শেষ দিনে আন্তর্জাতিক রেফারেন্স প্রাইসের ভিত্তিতে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা ট্রেডিং আইডিতে লাভ-লোকসান সমন্বয় হয়ে যাবে। বৈশ্বিক কমোডিটি বাজারের ৯৫ শতাংশ লেনদেনই এই ক্যাশ সেটেলমেন্ট পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়।
একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী খুব সহজ কয়েকটি ধাপে এই কমোডিটি প্ল্যাটফর্মে ট্রেডিং করতে পারবেন:
১. লাইসেন্সপ্রাপ্ত কমোডিটি ব্রোকারেজ হাউসে একটি বিশেষ ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। ২. সাধারণ শেয়ারের মতো পুরো পণ্যের শতভাগ দাম পরিশোধ করতে হবে না; রেগুলেটর নির্ধারিত নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘মার্জিন মানি’ বা জামানত জমা দিয়েই ফিউচার চুক্তিতে অংশ নেওয়া যাবে। ৩. বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে মনে করলে ‘লং’ বা ক্রয় (Buy) পজিশন নেওয়া যাবে। আবার ভবিষ্যতে দাম কমবে মনে হলেও আগে থেকে ‘শর্ট’ বা বিক্রয় (Sell) পজিশন নিয়ে মন্দা বাজার থেকেও মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। ৪. প্রতিদিনের আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্টের মার্জিন রিয়েল-টাইমে আপডেট হতে থাকবে এবং মেয়াদ শেষে অর্জিত লাভ বা ক্ষতি সরাসরি ওয়ালেটে অ্যাডজাস্ট হয়ে যাবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে সিএসই-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান মজুমদার বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সহজ পণ্য দিয়ে লেনদেন শুরু করে পরবর্তীতে গম বা তুলার মতো কৃষি পণ্যকে এই তালিকায় যুক্ত করা হবে।
তিনি জানান, কমোডিটি ব্রোকারেজ চালুর জন্য নির্ধারিত পরিশোধিত মূলধনের শর্ত পূরণ করে ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে আলাদা লাইসেন্স নিতে হবে। বিএসইসি থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললেই বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে লেনদেন শুরু করা সম্ভব হবে, যা দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারে নতুন গতি আনবে।