বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বণিক বার্তার জনপ্রিয় আলোচনা অনুষ্ঠান ‘অন্তর্দৃষ্টি’-তে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবং সিকম গ্রুপ ও প্রিমিয়ার সিমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেছেন, “রেজিমেন্টেড ফোর্স বা লাঠি দিয়ে বন্দর ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চালানো যায় না।” চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক সেবা খাতের আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা, নীতিনির্ধারকদের বিচ্ছিন্নতা এবং ব্যবসায়িক ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে দায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম বণিক বার্তার স্টুডিওতে আয়োজিত এ সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাণিজ্য ও শিল্পের আন্তর্জাতিক রেটিংয়ে বাংলাদেশ বহুদূর পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হলো বন্দর ও রেগুলেটরি বডিগুলোতে সঠিক পেশাদারদের অভাব। বিশ্বের অন্যান্য দেশে সাপ্লাই চেইন, লজিস্টিকস কিংবা কস্ট অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা বন্দর ও বিমান সংস্থা পরিচালনা করলেও বাংলাদেশে প্রশাসনিক পদগুলোতে ঘনঘন পরিবর্তন আনা হয়, যার প্রভাব পড়ে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে।
আলোচনায় আমিরুল হক বলেন, “সকাল ৯টায় সচিবালয়ে ঢুকে বেলা ৩টায় বের হওয়া বড় বড় শীর্ষ ব্যবসায়ীদের চিত্র কোনো সুস্থ অর্থনীতির লক্ষণ হতে পারে না।” যেখানে কাস্টমস কমিশনারদের সরাসরি ব্যবসায়ীদের কাছে এসে সমস্যার কথা শোনার কথা, সেখানে কর্মকর্তারা এখন ব্যবসায়ীদের থেকে দূরে থাকেন। ভিয়েতনামে যেখানে একক পৃষ্ঠার অনলাইন ফর্মে ১৭টি লাইসেন্স ও পারমিট প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হয়, সেখানে বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের শত শত দপ্তর ঘুরে কেবল হয়রানি পোহাতে হয়।
বন্দর চালনায় অদক্ষতার চিত্র তুলে ধরে চেম্বার সভাপতি জানান, চট্টগ্রাম বন্দর এখন ‘দুর্গের মতো’ হয়ে উঠেছে। পোর্টে নিলামের অপেক্ষায় ১০ হাজার কন্টেইনার বছরের পর বছর ফেলে রাখা বন্দরের প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রমাণ। “১৯৮৬ সালের ডলারে হিসাব করা ট্যারিফের কারণে ডলারের দাম বাড়ার সাথে সাথে বন্দরের আয় ৪ হাজার কোটি থেকে ৬ হাজার কোটি টাকায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এরপরও কোনো স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে,” বলেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে জিডিপির ১৬ শতাংশ অর্থ লজিস্টিকসে ব্যয় হচ্ছে, যা বৈশ্বিক গড়ের (৮-১০%) প্রায় দ্বিগুণ।
গভীর সমুদ্রবন্দর ও অবকাঠামো ঘিরে পরিকল্পনার অভাব
পটুয়াখালীর পায়রা কিংবা মাতারবাড়ী বন্দর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নাব্যতা বা ড্রাফটের সঠিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোনাদিয়ায় ১৮ মিটার ড্রাফট পাওয়া সম্ভব থাকলেও তা না করে অন্যান্য বিকল্প বেছে নেওয়া হয়েছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরে জাহাজ আনা এবং সেখান থেকে চট্টগ্রাম কিংবা অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে কন্টেইনার ও কার্গো পরিবহনের স্পষ্ট ব্যাক-অফ-সিন পরিকল্পনা ছাড়াই ২০২৯ সালে চালু করার কথা বলা হচ্ছে।
“অর্থ বা বাণিজ্য মন্ত্রী একা পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বদলাতে পারবেন না, যদি না প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক পুরো সিস্টেমে ডিরেগুলেশন বা সংস্কার আসে। স্টিল, সিমেন্ট, গ্লাস বা সিরামিকের মতো বিশ্বমানের দেশীয় আধুনিক শিল্প কারখানাগুলো আজ কাঠামোগত নীতি সহায়তার অভাবে ধুঁকছে।” — মোহাম্মদ আমীরুল হক










