Home খেলাধুলা কুয়ান হংচানের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং: তদন্তে নামছে চীন

কুয়ান হংচানের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং: তদন্তে নামছে চীন

কুয়ান হংচান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চীনের ডাইভিং সম্রাজ্ঞী কুয়ান হংচানের বিরুদ্ধে সুসংগঠিতভাবে অনলাইনে ঘৃণা ছড়ানো এবং বিদ্বেষমূলক আক্রমণের ঘটনায় একটি বড় ধরনের তদন্ত শুরু হয়েছে। অলিম্পিক স্বর্ণপদক জয়ী এই অ্যাথলেটকে সামাজিক মাধ্যমে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, যার মধ্যে তাকে “শূকর” বলে অভিহিত করা এবং তার শারীরিক গঠন নিয়ে কটূক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, কুয়ানের বিরুদ্ধে এই বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য ২৮২ সদস্যের একটি বিশেষ অনলাইন গ্রুপ তৈরি করা হয়েছিল। চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই গ্রুপে কুয়ানের নিজস্ব দলের কিছু সদস্য ছাড়াও একজন ডাইভিং বিচারক এবং একজন ক্রীড়া সাংবাদিকের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ম্যাকাওয়ের একজন ডাইভার, যাকে এই গ্রুপে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তিনি এই অপব্যবহার দেখে গ্রুপটি ত্যাগ করেন। এর ফলে তাকেও বিদ্রূপের শিকার হতে হয়।
১৯ বছর বয়সী কুয়ান ২০২১ সালের টোকিও অলিম্পিকে মাত্র ১৪ বছর বয়সে স্বর্ণ জিতে রাতারাতি খ্যাতি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে তিনি আরও দুটি স্বর্ণপদক জয় করেন। তবে তার এই সাফল্যকে অনেকেই “ভাগ্য” বলে ছোট করার চেষ্টা করেছেন।
একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে অশ্রুসিক্ত চোখে কুয়ান জানান, বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক পরিবর্তনের কারণে তাকে যেভাবে অনলাইনে আক্রমণ করা হচ্ছে, তা তাকে চরম দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। এমনকি তিনি আয়না, ওজন মাপার যন্ত্র এবং ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতেও ভয় পাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি দিনে মাত্র একবেলা খাবার খেয়ে নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
এরশা স্পোর্টস ট্রেনিং সেন্টার একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা সব ধরনের সাইবার বুলিং এবং বিষাক্ত ফ্যান কালচারের বিরুদ্ধে এবং কুয়ান হংচানকে আইনিভাবে সহায়তা করতে তারা বদ্ধপরিকর। চীনের প্রখ্যাত ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার হান কিয়াওশেং এই ঘটনাকে “হৃদয়বিদারক” বলে বর্ণনা করেছেন এবং পুলিশের হস্তক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন।
চীনের আইন অনুযায়ী, কারো ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সম্মানে আঘাত হানলে ৫ থেকে ১০ দিনের জেল এবং ৫০০ ইউয়ান পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া অনলাইন চ্যাট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজাররাও সদস্যদের বক্তব্যের জন্য আইনিভাবে দায়ী থাকবেন।
বেইজিংয়ের আইনজীবী ইয়ান কিং জানিয়েছেন, গুরুতর ক্ষেত্রে এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগও আনা হতে পারে।
এই ঘটনাটি চীনা ক্রীড়াঙ্গনে ক্রমবর্ধমান “ফ্যান কালচার” বা উগ্র ভক্ত সংস্কৃতির নেতিবাচক দিকটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে প্যারিস অলিম্পিকের সময় কয়েক হাজার ক্ষতিকারক অ্যাকাউন্ট এবং লাখ লাখ কন্টেন্ট মুছে ফেলেছে।