Home চট্টগ্রাম রাস্তা বাড়ে, খুঁটি নড়ে না: চট্টগ্রামের প্রশস্ত সড়কের মাঝেই ‘মরণফাঁদ’

রাস্তা বাড়ে, খুঁটি নড়ে না: চট্টগ্রামের প্রশস্ত সড়কের মাঝেই ‘মরণফাঁদ’

 বিজনেসটুডে২৪ প্র্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: মহানগরীর যাতায়াত ব্যবস্থা আধুনিক করতে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন। বড় অংকের বাজেট খরচ করে গলি থেকে রাজপথ প্রশস্ত করা হচ্ছে। কিন্তু উন্নয়নের এই চিত্র ম্লান হয়ে যাচ্ছে রাস্তার মাঝখানে সটান দাঁড়িয়ে থাকা বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটির কারণে।

নগরবাসীর অভিযোগ—রাস্তা সরেছে ঠিকই, কিন্তু খুঁটি সরেনি। বছরের পর বছর তাগাদা দিয়েও ঘুম ভাঙছে না বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিনে দৃশ্যপট

সম্প্রতি নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়ক সম্প্রসারণের ফলে আগে যেখানে খুঁটিগুলো রাস্তার পাশে ছিল, এখন সেগুলো পিচঢালা মূল সড়কের ওপর চলে এসেছে। কোনো কোনো সড়কে খুঁটিগুলো এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছে যে, দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, দুটি রিকশা পার হওয়াও দায় হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে রাতে এই খুঁটিগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়। পর্যাপ্ত সড়ক বাতি না থাকা বা বৃষ্টির দিনে চালকরা রাস্তার মাঝখানে থাকা এসব খুঁটি ঠাহর করতে পারেন না, যার ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

সমন্বয়হীনতার চরম খেসারত

একটি শহর পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে যে ধরণের সমন্বয় প্রয়োজন, চট্টগ্রামে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) সূত্র জানায়, সড়ক প্রশস্ত করার সময় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও টিএন্ডটি কর্তৃপক্ষকে খুঁটি সরানোর জন্য বারবার চিঠি দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে খুঁটি সরানোর খরচও অগ্রিম পরিশোধ করা হয়। কিন্তু মাসের পর মাস পার হয়ে গেলেও খুঁটি সরানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না।

স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, “সিটি কর্পোরেশন কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা বড় করল, কিন্তু রাস্তার মাঝখানে এই খুঁটিগুলোর জন্য বড় গাড়ি ঢুকতে পারে না। আমাদের ভোগান্তি আগের মতোই রয়ে গেল। রাস্তা বড় হলো না কি খুঁটি দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হলো—বোঝা মুশকিল।”

বিপদ যখন নিত্যসঙ্গী

১. যানজটের নতুন উৎস: রাস্তা চওড়া হলেও মাঝখানে খুঁটি থাকায় যানবাহনগুলো সরলরেখায় চলতে পারে না। ফলে জটলা তৈরি হয় এবং প্রশস্ত সড়কের সুফল বৃথা যায়। ২. দুর্ঘটনার ঝুঁকি: বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চালকরা প্রায়ই এই খুঁটির সাথে ধাক্কা খেয়ে আহত হচ্ছেন। ৩. অব্যবহৃত সড়ক: অনেক জায়গায় রাস্তার মাঝখানে খুঁটি থাকায় সেই পাশ দিয়ে আর কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারে না, ফলে রাস্তার বড় একটা অংশ অব্যবহৃতই থেকে যাচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা আমাদের কাজ করছি, কিন্তু পিডিবি বা বিটিসিএল তাদের খুঁটি না সরালে আমরা জোরাজুরি করতে পারি না। এতে উন্নয়নের সুফল ভেস্তে যাচ্ছে।” অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলো বাজেট স্বল্পতা ও জনবল সংকটের পুরনো দোহাই দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে।

বিশেষজ্ঞ মত

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই সমন্বয়হীনতা কেবল জনদুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ও করছে। সড়ক নির্মাণের নকশা অনুমোদনের আগেই সব সেবা সংস্থার সাথে সমন্বিত পরিকল্পনা নিশ্চিত করা না গেলে চট্টগ্রামের এই ‘খুঁটি-সংস্কৃতি’ থেকে মুক্তি মিলবে না।

নগরবাসীর দাবি, জননিরাপত্তার স্বার্থে এবং যানজট নিরসনে অবিলম্বে এসব বিপজ্জনক খুঁটি অপসারণ করে সড়কগুলোকে চলাচলের উপযোগী করা হোক।