বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে একযোগে অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহাসিক গণভোটের প্রচার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের প্রশ্নে সাধারণ মানুষের রায় নিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটারদের দোরগোড়ায় তথ্য পৌঁছে দিতে এবার দেশজুড়ে ৮০ লাখ ৪২ হাজার লিফলেট এবং ৫৭ হাজার ব্যানার বিতরণের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে কমিশন।
শনিবার রাতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রচারসামগ্রী তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং চলতি সপ্তাহের শুরুতেই জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এসব সামগ্রী পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
প্রচারণার বিশাল বহর
ইসি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ভোটারদের সচেতন করতে সুনির্দিষ্টভাবে ৮০ লাখ ৪২ হাজার লিফলেট মুদ্রণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জনসমাগমস্থলে প্রদর্শনের জন্য ১৫ হাজার বড় ব্যানার এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের প্রবেশপথে টাঙানোর জন্য ৪২ হাজার ৭৬৬টি ছোট ব্যানার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “গণভোটের বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে তুলনামূলক নতুন। তাই ব্যালট পেপার কেমন হবে এবং কোন প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে, তা লিফলেটের মাধ্যমে সহজভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
কেন এই গণভোট?
এবারের গণভোটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিতর্কিত ও বহুল আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার)’। ভোটারদের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হবে, তারা এই নতুন সংস্কার প্রস্তাবগুলো সমর্থন করেন কি না।
সনদের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
- প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা।
- কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারা।
- বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও উচ্চ আদালত গঠনে স্বচ্ছতা।
- ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থার স্থায়ী রূপরেখা নিশ্চিত করা।
নির্বাচন কমিশনাররা জানিয়েছেন, শুধু লিফলেট বা ব্যানার নয়, মাঠপর্যায়ে মাইকিং এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন বা ‘পিএসএ’ প্রচারের কাজও শুরু হচ্ছে ৫ জানুয়ারি থেকে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সুবিধার্থে ‘নমুনা ব্যালট’ প্রদর্শন করা হবে যাতে তারা ভুল না করেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারের পাশাপাশি ভোটারদের একটি আলাদা গোলাপি রঙের ব্যালট পেপার দেওয়া হবে গণভোটের রায় দেওয়ার জন্য।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের এই ব্যাপক প্রচারণা জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যা জুলাই সনদের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে সহায়ক হবে।










