Home সারাদেশ টিকটক থেকে পরিচয়, অতঃপর মেয়ের হবু বরের হাত ধরে উধাও তিন সন্তানের...

টিকটক থেকে পরিচয়, অতঃপর মেয়ের হবু বরের হাত ধরে উধাও তিন সন্তানের মা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের শান্ত গ্রাম চর-ত্রিবেণী। সেখানে বসন্তের বাতাস এবার এক অদ্ভুত বিষাদ আর বিস্ময় বয়ে এনেছে। যে মায়ের আঁচল হওয়ার কথা ছিল সন্তানের নিরাপদ আশ্রয়, সেই আঁচলই আজ এক নিষিদ্ধ প্রেমের পতাকায় পরিণত হয়েছে। সম্পর্কের এই গোলকধাঁধা দেখে মনে পড়ে যায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সেই অমোঘবাণী, “পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?” কিন্তু এখানে কেবল পথ হারানো নয়, বরং সামাজিক ও পারিবারিক সব নৈতিকতার পথ মাড়িয়ে এক মা পা বাড়িয়েছেন অজানার উদ্দেশ্যে।
গল্পের শুরুটা ছিল আধুনিক যুগের ছোঁয়ায়—টিকটকের রঙিন পর্দায়। ছদ্মবেশী সেনা সদস্য মামুনের মায়াবী জালে জড়িয়ে পড়েন তিন সন্তানের জননী রিমি খাতুন। বিভ্রমটা এতটাই গাঢ় ছিল যে, নিজের বড় মেয়ের জীবনসঙ্গী হিসেবে মামুনকেই পছন্দ করেন তিনি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, “প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে, কে কোথা ধরা পড়ে”—কিন্তু এই ফাঁদ যখন মা আর মেয়ের হবু বরের মধ্যে পাতা হয়, তখন তা কেবল ট্র্যাজেডিই জন্ম দেয়। মা ও হবু জামাইয়ের এই অস্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা সইতে না পেরে বড় মেয়েটি অভিমানে আত্মাহুতির পথ বেছে নেয়। একটি প্রাণ ঝরে গেল, তবু থামল না এই নিষিদ্ধ মোহ।
রিমির সতেরো বছরের সংসার, স্বামীর বিশ্বাস আর মাতৃত্বের মমতা—সবই তুচ্ছ হয়ে গেল মামুনের মোহের কাছে। গত মঙ্গলবার যখন স্বামী রাশেদ আলী বাড়িতে ছিলেন না, তখন দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে ঘর ছাড়েন রিমি। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসে অনেক সময় হৃদয়ের টানকে বড় করে দেখা হয়েছে, কিন্তু সমাজের চোখে এই পলায়ন এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা।
চর-ত্রিবেণী গ্রামের মানুষ এখন স্তব্ধ, আর পুলিশ ব্যস্ত সেই হারানো সন্তানদের উদ্ধার অভিযানে। ঘর ভাঙার এই করুণ কাহিনি এখন মানুষের মুখে মুখে, যা কেবল একটি সাধারণ ডায়েরি নয়, বরং একটি ভেঙে যাওয়া সংসারের আর্তনাদ হয়ে বাতাসে ভাসছে।
এমন আরও আপডেট পেতে এবং আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে businesstoday24.com এভাবে ফলো করুন ও মন্তব্য করুন।