বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম : দেশে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে চিনি পরিশোধনকারী কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চাহিদামতো পণ্য বাজারে সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ায় চিনির বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে চিনির দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। অন্যদিকে বড় পাইকারি মোকামগুলোতে পণ্যের জোগান সন্তোষজনক থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ শৃঙ্খলের জটিলতা ও হাতবদলের কারণে খুচরা পর্যায়ে কোনো স্বস্তি পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২৫ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগেও ১০৫ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে ছিল। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত চিনির দাম নেওয়া হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা পর্যন্ত। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে চিনির দাম কেজিতে অন্তত ৭ শতাংশ বেড়েছে।
পাইকারি মোকাম খাতুনগঞ্জসহ দেশের প্রধান বাজারগুলোতে বর্তমানে প্রতি মণ চিনি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ টাকায়, অর্থাৎ কেজিপ্রতি দর পড়ছে ১১৫ থেকে ১১৮ টাকা। আবার মিলগেট ও ৫০ কেজির বস্তার হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ছে ১০৮ থেকে ১১০ টাকা, যা সপ্তাহ দুয়েক আগে ছিল ১০০ টাকার কাছাকাছি। পাইকারি ও খুচরা মূল্যের মধ্যে এই বিস্তর ফারাকের পেছনে বাড়তি পরিবহন খরচ, দোকান পরিচালন ব্যয় ও ওজনে ঘাটতির কথা বলছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত চিনির দাম বৃদ্ধি এবং দেশে গ্যাস সংকটের কারণে প্রক্রিয়াকরণ ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। দেশে বার্ষিক চিনির চাহিদা ২৪ থেকে ২৫ লাখ মেট্রিক টন হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলো থেকে মিলছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন, যা মোট চাহিদার দুই শতাংশেরও কম। ফলে চাহিদার ৯৮ শতাংশই বেসরকারি রিফাইনারিগুলোর আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে মূলত মেঘনা গ্রুপ, সিটি গ্রুপ ও আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি—এই তিন প্রতিষ্ঠানের ওপর পুরো দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে রয়েছে। গ্যাস সংকটে এসব কারখানার উৎপাদন কমে যাওয়ায় কোম্পানিগুলো বাকিতে ‘সাপ্লাই অর্ডার’ (এসও) দেওয়া বন্ধ করে দিয়ে কেবল নগদ টাকায় সীমিত পরিসরে চিনি সরবরাহ করছে।
আয়ের সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা। পাইকারি মোকাম ও মিলগেট থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত নিয়মিত প্রশাসনিক নজরদারি ও কঠোর বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে এই অযৌক্তিক মূল্যের ফারাক কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট ও বাজার বিশ্লেষকরা।