Home নির্বাচন ‘সিলেট হবে অগ্রাধিকারের কেন্দ্রবিন্দু’, শফিকুর রহমান

‘সিলেট হবে অগ্রাধিকারের কেন্দ্রবিন্দু’, শফিকুর রহমান

সংগৃহীত ছবি

সিলেটে জামায়াতের জনসভা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, সিলেট: সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে ১১ দলীয় জোটের এক নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন, তাদের দল ক্ষমতায় গেলে সিলেটের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে ন্যায্য হিস্যা আদায় করা হবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত এই বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সিলেটের উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতি নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেন।
সিলেটের উন্নয়নে বিশেষ অঙ্গীকার
সিলেট অঞ্চলের পুঞ্জীভূত সমস্যার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিক বলেন:
বিমানবন্দর: ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেবল নামেই নয়, বাস্তবে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করা হবে। ম্যানচেস্টার ফ্লাইট পুনরায় চালুর পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক রুট খোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নদী রক্ষা: দখল ও দূষণে মৃতপ্রায় সিলেটের নদীগুলোকে বিশ্বমানের মডেলে পুনরুদ্ধার করে স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে আনা হবে।
কৃষি ও সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জকে দেশের ‘কৃষিখাতের রাজধানী’ করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বাঁধ নিয়ে দুর্নীতি বন্ধ করে হাওরের কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
প্রবাসীদের জন্য নতুন নীতিমালা
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবমাননার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, প্রবাসে কেউ মারা গেলে রাষ্ট্রীয় খরচে সসম্মানে মরদেহ দেশে আনা হবে। এছাড়া উপার্জনের সক্ষমতা অর্জনের আগে কোনো প্রবাসী মারা গেলে তার পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করবে।
দুর্নীতি ও পাচারকৃত অর্থ ফেরত
বিগত ৫৪ বছরের শোষণ ও গত ১৭ বছরের দুর্নীতির কড়া সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন:

“দেশ থেকে পাচার হওয়া সাড়ে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচারকারীদের পেট থেকে বের করে আনা হবে। কোনো অর্থ পাচারকারী শান্তিতে ঘুমাতে পারবে না।”

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূমির সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো অঞ্চলই অবহেলিত থাকবে না।
প্রর্থী পরিচিতি
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ডা. শফিকুর রহমান সিলেট জেলার ৬টি আসনের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতীক হাতে তুলে দিয়ে জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। সভায় জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।