Home সারাদেশ দাউদকান্দিতে আগুনের লেলিহান শিখায় নিভে গেল চার প্রাণ

দাউদকান্দিতে আগুনের লেলিহান শিখায় নিভে গেল চার প্রাণ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, দাউদকান্দি: শুক্রবার জুমার আজানের আগমুহূর্ত। যখন মানুষ জুমার নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই কুমিল্লার দাউদকান্দির বানিয়াপাড়া এলাকায় আকাশ কালো করে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠল ধোঁয়া। মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দময় একটি দুপুর রূপ নিল এক বিভীষিকাময় ট্র্যাজেডিতে। বাস, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে লাগা আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেল চারটি তাজা প্রাণ।

নিহতদের মধ্যে রয়েছে দুই অবোধ শিশু, এক নারী ও এক পুরুষ। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত তাদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি; পরিচয় কেবল এটুকুই—তারা কেউ কারো সন্তান, কেউ কারো মা কিংবা বাবা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দাউদকান্দির বানিয়াপাড়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, মোটরসাইকেলের জ্বালানি ট্যাংক ফুটো হয়ে সম্ভবত আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাসে। জানালার কাঁচ ভেঙে বের হওয়ার সুযোগটুকুও হয়তো পায়নি ভেতরে থাকা অভাগা মানুষগুলো।

ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যখন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন, তখন উদ্ধার হয় চারটি কয়লা হয়ে যাওয়া মরদেহ। পুড়ে যাওয়া বাসের কঙ্কাল আর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপের মাঝে দুই শিশুর নিথর দেহ দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।

“আমরা এসে দেখি দাউ দাউ করে বাসটি জ্বলছে। মানুষের চিৎকার আর আগুনের উত্তাপে কাছে যাওয়ার উপায় ছিল না। মুহূর্তের মধ্যেই সব শান্ত হয়ে গেল, শুধু পড়ে থাকল কয়েকটি পোড়া লাশ।” — একজন প্রত্যক্ষদর্শী।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ এখনো উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জুমার নামাজের পর যেখানে খুশির আমেজ থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন কেবলই হাহাকার।

একটি মুহূর্তের অসতর্কতা নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি—কে নেবে এই চার প্রাণের দায়? উত্তর হয়তো মিলবে তদন্তে, কিন্তু যে পরিবারগুলো আজ নিঃস্ব হলো, তাদের সেই শূন্যতা কি কখনো পূরণ হবে?