আক্রান্ত ৫, আশঙ্কাজনক অবস্থায় নার্স
কৃষ্ণা বসু, কলকাতা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় ব্যাপক সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। রাজধানী কলকাতার সন্নিকটে উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাতে এখন পর্যন্ত পাঁচজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি কন্টাক্ট ট্রেসিং এবং কোয়ারেন্টাইন প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন।
সংক্রমণের বিস্তারিত
আক্রান্তদের মধ্যে একজন চিকিৎসক, দুইজন নার্স এবং একজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। তারা সবাই বারাসাতের নারায়ণ মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে কর্মরত। আক্রান্তদের মধ্যে একজন নারী নার্সের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন; তিনি বর্তমানে কোমায় রয়েছেন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম জানান, ওই নার্স শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা এক রোগীর সেবা করার সময় সংক্রমিত হন। দুর্ভাগ্যবশত, পরীক্ষার আগেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ
ভাইরাসটির বিস্তার রোধে এখন পর্যন্ত ১৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ২০ জনকে কঠোর কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বাদুড় থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসটি অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি ও লক্ষণ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নিপাহ ভাইরাসকে ‘প্রায়োরিটি প্যাথোজেন’ বা অগ্রাধিকারমূলক রোগ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর মূল কারণগুলো হলো:
মৃত্যুহার: এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
চিকিৎসা: এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
লক্ষণ: শুরুতে জ্বর, মাথাব্যথা ও পেশিতে ব্যথা দেখা দিলেও দ্রুত তা তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং মস্তিষ্কের প্রদাহে (Encephalitis) রূপ নিতে পারে। যা রোগীকে ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোমায় নিয়ে যেতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (IMA)-এর সাবেক সভাপতি রাজীব জয়দেভান জানান, মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বিরল হলেও এটি মূলত বাদুড় বা শুকরের মাধ্যমে ছড়ায়। বিশেষ করে বাদুড়ের লালা বা মূত্র লেগে থাকা ফলমূল বা কাঁচা খেজুরের রস পান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ভারতে গত দুই দশক ধরে প্রায় প্রতি বছরই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে, বিশেষ করে কেরালা রাজ্যে এর প্রকোপ বেশি দেখা যায়। তবে এবার ঘনবসতিপূর্ণ কলকাতার পাশে এর সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।
এ ধরণের আরও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে ভিজিট করুন www.businesstoday24.com










