চিরতরুণ থাকার ম্যাজিক!
হেলথ ডেস্ক: বয়স মাত্র একটি সংখ্যা—এই প্রবাদটি যেন বাস্তবে প্রমাণ করে চলছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লি সি-হিয়ং। ৯৩ বছর বয়সেও তিনি পেশাগত জীবনে সক্রিয়। সম্প্রতি কেবিএস ২টিভির (KBS 2TV) একটি অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবন এবং সুস্বাস্থ্যের নেপথ্যের গল্পগুলো তুলে ধরেন।
সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ
ডা. লি জানান, ৭৫ বছর বয়সে তিনি স্বেচ্ছায় তাঁর ড্রাইভিং লাইসেন্স ত্যাগ করেন। তাঁর মতে, বয়সের সাথে মানুষের প্রতিবর্ত ক্রিয়া বা রিফ্লেক্স (Reflex) ধীর হয়ে যায়। নিজের এবং অন্যের নিরাপত্তার কথা ভেবেই তিনি আর স্টিয়ারিং ধরেননি। বর্তমানে চলাচলের জন্য তিনি সাবওয়ে বা পাতাল রেল ব্যবহার করেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে দক্ষিণ কোরিয়ায় সাবওয়ে ভাড়া বিনামূল্যে হলেও ডা. লি সবসময় টিকিট কেটে যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, “আমি এখনো কর্মক্ষম এবং সক্রিয়। আমি দেশের কাছে ঋণী হতে চাই না।” এমনকি তিনি ট্রেনের বয়স্কদের জন্য সংরক্ষিত আসনেও বসেন না, যাতে অন্য তরুণ যাত্রীরা অস্বস্তিতে না পড়ে।
দৈনিক ব্যায়াম: সকাল ও বিকেলের রুটিন
দীর্ঘায়ু ও কর্মক্ষম থাকার মূল চাবিকাঠি হিসেবে ডা. লি তাঁর কঠোর ব্যায়াম রুটিনকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি প্রতিদিন দুই বেলা নিয়ম করে শরীরচর্চা করেন:
সকাল (৩০-৪০ মিনিট): ঘুম থেকে উঠে তিনি ক্যালিসথেনিক্স (Calisthenics), স্ট্রেচিং, পুশ-আপ, স্কোয়াট এবং স্টেপার ব্যায়াম করেন। রুটিন শেষ করেন হালকা ধ্যানের (Meditation) মাধ্যমে।
সন্ধ্যা (৩০ মিনিট): প্রতিদিন সন্ধ্যায় তিনি তাঁর আবাসন এলাকায় অন্তত তিনবার চক্কর দেন বা হাঁটেন। এমনকি ব্যবসার কাজে বাইরে থাকলেও তিনি এই নিয়মের অন্যথা করেন না।
ডা. লির মতে, “ব্যায়ামকে আলাদা কাজ হিসেবে না দেখে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অংশ করে তোলাই হলো সুস্থ থাকার সেরা উপায়।”
৪০ বছর ধরে আক্রান্ত হননি সর্দি-কাশিতে
ডা. লি দাবি করেন, গত ৪০ বছরে তিনি একবারও সাধারণ সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হননি। এর কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন তাঁর শৈশবের প্রতিকূল পরিবেশকে। কোরিয়ান যুদ্ধের সময় হাইস্কুলে পড়া ডা. লি অত্যন্ত দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন। তিনি মনে করেন, সেই কঠিন সময়গুলোই তাঁর শরীরে এক শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) তৈরি করে দিয়েছে।
“কষ্টের দিনগুলো আমার শরীরের জন্য পুষ্টির মতো কাজ করেছে, যা আমাকে আজ এই বয়সেও মানসিকভাবে স্থিতিস্থাপক ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী রেখেছে।”
ডা. লি সি-হিয়ং-এর জীবন আমাদের শেখায় যে, সুস্থ থাকা কেবল শারীরিক ব্যায়ামের বিষয় নয়, বরং এটি একটি মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি ও শৃঙ্খলার নাম। আত্মমর্যাদা বোধ এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করাই তাঁর এই দীর্ঘ পথের পাথেয়।
এ ধরণের আরও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে ভিজিট করুন www.businesstoday24.com










