Home Third Lead শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ

শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: শীতের আগমনী বার্তার সাথে সাথেই শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ। জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং রোগীদের সুরক্ষা বিধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সকল হাসপাতালের জন্য সাত দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনাগুলো জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, শীতকালীন রোগের বিস্তার রোধ এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

নির্দেশনাসমূহ:

১. ভৌত অবকাঠামো মেরামত: হাসপাতালের ভাঙা জানালা, দরজা বা ঠান্ডা বাতাস প্রবেশের স্থানগুলো দ্রুত পিডব্লিউডি/এইচইডি অথবা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মেরামত বা সংস্কার করতে হবে। এর ফলে হাসপাতালের অভ্যন্তরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং রোগীদের ঠান্ডা লাগা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

২. কম্বল ও মশারির সরবরাহ: রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে কম্বল ও মশারির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এটি শীতের প্রকোপ এবং তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।

৩. প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ততা: শীতকালীন রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় নেবুলাইজার সলিউশন, অ্যান্টিবায়োটিক, অক্সিজেন, ওরাল স্যালাইন, আইডি ফ্লুইড এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রাখতে হবে এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

৪. বৈকালিক রাউন্ড বাধ্যতামূলক: শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসকদের বাধ্যতামূলক বৈকালিক রাউন্ড নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রোগীদের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়।

৫. স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান: রোগীর অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের শীতকালীন রোগ এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান করা যেতে পারে, যাতে তারা রোগ প্রতিরোধে সচেতন হন।

৬. প্রতিবেদন প্রেরণ: প্রতিদিন এমআইএস কন্ট্রোল রুমে হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রতিবেদন পাঠাতে হবে, যাতে সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকা যায়।

৭. হাসপাতাল প্রধানদের নজরদারি: হাসপাতাল প্রধানদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি রাখা প্রয়োজন, যাতে শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রোগীরা সঠিক ও সময়োপযোগী সেবা পান।

এই পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। দেশের সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক, জেলা সদর ও জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

এই উদ্যোগ শীতকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের স্বাস্থ্য খাতের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে