Home পণ্যবাজার এলপিজি আমদানির মারপ্যাঁচে ‘কৃত্রিম সংকট’, পকেট কাটছে সিন্ডিকেট

এলপিজি আমদানির মারপ্যাঁচে ‘কৃত্রিম সংকট’, পকেট কাটছে সিন্ডিকেট

ছবি এ আই
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: সরকার নির্ধারিত দামে দেশের কোথাও মিলছে না রান্নার গ্যাস (এলপিজি)। উল্টো বিইআরসি নির্ধারিত ১,৩০৬ টাকার সিলিন্ডার খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১,৯৫০ থেকে ২,০৫০ টাকায়। আমদানিতে কিছুটা জটিলতা থাকলেও এই আকাশচুম্বী দামের নেপথ্যে কাজ করছে একটি ‘দুষ্টচক্র’। যারা সরবরাহ সংকটের অজুহাতে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।

গত রবিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১,৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু রাজধানীর লালবাগ, মোহাম্মদপুর কিংবা মগবাজারের চিত্র ভিন্ন। সেখানে ক্রেতাদের সিলিন্ডার প্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনভর ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সিলিন্ডার। গ্রাহকদের অভিযোগ, বাড়তি দাম দিলেই কেবল বেরিয়ে আসছে ‘লুকিয়ে রাখা’ গ্যাস।

বাজার বিশ্লেষণে এলপিজির এই সংকটের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে:

১. জাহাজ ও এলসি জটিলতা: এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (লোয়াব)-এর মতে, পরিবহনের ২৯টি জাহাজ মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়ায় আমদানিতে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া দেশে এলসি জটিলতার কারণে ২৮টি অপারেটরের মধ্যে মাত্র ৮-৯টি কোম্পানি বর্তমানে সরাসরি আমদানি করছে।

২. বড় কোম্পানির হাত গুটিয়ে নেওয়া: বসুন্ধরা, বেক্সিমকো, নাভানা ও অরিয়নের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এলসি সমস্যায় আমদানি করতে না পারায় বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।

৩. কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট: খোদ জ্বালানি বিভাগ ও লোয়াব স্বীকার করেছে যে, বাজারে যে ঘাটতি রয়েছে তা অস্বাভাবিক নয়। মূলত স্থানীয় পর্যায়ের খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা একজোট হয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। শিল্পে সরবরাহ কমিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সরবরাহ ঠিক রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সংকট একদল অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজি।

কেবল বিজ্ঞপ্তি জারি নয় বরং মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অভিযান এখন সময়ের দাবি। যেসব অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম অভাব দেখিয়ে বাড়তি মুনাফা লুটছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না।

এক নজরে বর্তমান এলপিজি বাজার:

বিবরণ পরিমাণ/মূল্য
বিইআরসি নির্ধারিত দাম (১২ কেজি) ১,৩০৬ টাকা
খুচরা বাজারে বিক্রয়মূল্য ১,৯৫০ – ২,০৫০ টাকা
জানুয়ারিতে দাম বৃদ্ধি ৫৩ টাকা
দেশের মাসিক চাহিদা প্রায় ১৩ লাখ টন
গত মাসে আমদানি ১.২৭ লাখ টন

সরবরাহ চেইনে কিছুটা সীমাবদ্ধতা থাকলেও তা ১,৩০০ টাকার গ্যাস ২,০০০ টাকায় পৌঁছানোর যৌক্তিক কারণ হতে পারে না। মধ্যস্বত্বভোগী এবং মজুতদারদের সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রশাসনের আপসহীন অবস্থানই এখন বাজার স্থিতিশীল করার একমাত্র পথ।