বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, রাজশাহী: ঐতিহ্যবাহী রাজশাহীর রেশম বা সিল্ককে বিশ্বজুড়ে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলো। ‘সিল্ক সিটি’ হিসেবে খ্যাত রাজশাহীর রেশম শিল্পকে কেন্দ্র করে পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় সিল্কের ব্র্যান্ডিং বাড়াতে এখন চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ।
পর্যটনে নতুন রূপ: ঢেলে সাজানো হচ্ছে সিল্ক সিটি
রাজশাহীর রেশম কারখানাকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ ‘সিল্ক ট্যুরিজম জোন’ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। পর্যটকরা যাতে রেশম পোকা পালন থেকে শুরু করে সুতা কাটা এবং নিখুঁত সিল্ক শাড়ি তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটি সরাসরি দেখতে পারেন, সেজন্য রেশম উন্নয়ন বোর্ডে বিশেষ গ্যালারি ও প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
শহরের প্রবেশমুখ ও প্রধান চত্বরগুলোতে রেশম ঐতিহ্যের স্মারক স্থাপনাগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে স্থানীয় হস্তশিল্প ও সিল্কের বৈচিত্র্যময় পণ্য নিয়ে নিয়মিত মেলার আয়োজন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পর্যটন কর্পোরেশন।
বিশ্ববাজার ধরতে ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং
আন্তর্জাতিক ফ্যাশন দুনিয়ায় রাজশাহীর সিল্কের চাহিদাকে কাজে লাগাতে কাজ করছে বিসিক এবং রেশম বোর্ড। বর্তমানে কেবল শাড়ি নয়, সিল্কের তৈরি সমসাময়িক পোশাক, টাই ও গৃহসজ্জার পণ্য ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ারগুলোতে ‘রাজশাহী সিল্ক’ নামে একক ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করতে বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ
রেশম শিল্পের সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়াতে স্থানীয় ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (SME) এখন নামমাত্র সুদে এবং দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে ঋণ পাচ্ছেন। এই ঋণের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা আধুনিক লুম বা তাঁত স্থাপন এবং মানসম্পন্ন সুতা আমদানির সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের এই খাতে উৎসাহিত করতে বিসিক বিশেষ প্রশিক্ষণ ও ঋণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
রেশম শিল্পের পুনর্জাগরণ
রাজশাহী রেশম কারখানার বন্ধ থাকা লুমগুলো পর্যায়ক্রমে সচল হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সুতার সরবরাহ বাড়ছে। কারখানার আধুনিকায়নের ফলে এখন আগের চেয়ে অনেক উন্নত মানের ও সূক্ষ্ম কাজ করা সিল্কের থান তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক বাজারজাতকরণ এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বজায় থাকলে রাজশাহীর সিল্ক আবারও দেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত হবে।