Home Second Lead ঠকবাজির হাট: রান্নার গ্যাসে ওজনে ভয়ংকর কারচুপি

ঠকবাজির হাট: রান্নার গ্যাসে ওজনে ভয়ংকর কারচুপি

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

শামসুল ইসলাম, ঢাকা: রান্নার এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার এখন প্রতিটি গৃহস্থালির অপরিহার্য অংশ। কিন্তু এই প্রয়োজনীয় পণ্যটি ঘিরেই ডালপালা মেলছে এক ভয়ংকর প্রতারণা। সিলিন্ডারে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম গ্যাস দেওয়া তো এখন ‘ওপেন সিক্রেট’, তার ওপর যোগ হয়েছে সিলিন্ডারের ভেতরে বালু বা পানি ভরে ওজন বাড়ানোর মতো বিপজ্জনক জালিয়াতি। ভোক্তা অধিকার আর নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে একদল অসাধু চক্র সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।
প্রতারণার অভিনব সব কৌশল
তদন্তে দেখা গেছে, মূলত তিনভাবে এই জালিয়াতি করা হচ্ছে। প্রথমত, ১২.৫ কেজি বা নির্দিষ্ট ওজনের সিলিন্ডার থেকে বিশেষ নজলের মাধ্যমে ১-২ কেজি গ্যাস অন্য খালি সিলিন্ডারে সরিয়ে নেওয়া হয়। দ্বিতীয়ত, সিলিন্ডারের গায়ে লেখা ওজনের (Tare Weight) সাথে কারচুপি করা হয়।
সবচেয়ে ভয়ংকর কৌশলটি হলো সিলিন্ডারের ভেতরে বালু বা পানি ঢুকিয়ে দেওয়া। এতে ওজনে পাল্লা সমান থাকলেও ভোক্তা আসলে গ্যাস পাচ্ছেন অনেক কম। গ্যাসের সাথে পানি বা বালু মেশানো থাকলে ব্যবহারের সময় চুলার বার্নার নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে বড় ধরণের বিস্ফোরণের ঝুঁকিও তৈরি হয়।
ভুক্তভোগী ভোক্তাদের আর্তনাদ
মিরপুরের একটি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী শাহানা বেগম বলেন, “গত মাসে সিলিন্ডার কেনার দশ দিনেই গ্যাস শেষ হয়ে গেল। অথচ আগে একই কোম্পানির সিলিন্ডার এক মাস চলত। পরে ওজন মেপে দেখলাম সেখানে দুই কেজি গ্যাস কম ছিল। আমরা সাধারণ মানুষ তো আর ওজন মাপার যন্ত্র নিয়ে দোকানে যাই না।”
আরেক ভুক্তভোগী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রহমত উল্লাহ জানান তার তিক্ত অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, “একবার সিলিন্ডার ঝাঁকিয়ে মনে হলো ভেতরে তরল কিছু নড়ছে। ভাবলাম হয়তো গ্যাস, কিন্তু অর্ধেক ব্যবহারের পর চুলা দিয়ে লালচে আগুন বের হতে শুরু করল। টেকনিশিয়ান ডেকে সিলিন্ডার উপুড় করতেই প্রায় দুই লিটার ময়লা পানি বের হয়ে এল। টাকা দিয়ে কি আমরা পানি কিনছি?”
ঝুঁকির মুখে জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা
গ্যাস সিলিন্ডারে পানি বা বালুর উপস্থিতি কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, এটি একটি জীবন্ত বোমায় পরিণত হতে পারে। সিলিন্ডারের ভেতরের দেয়ালে পানি জমলে মরিচা ধরে স্টিল পাতলা হয়ে যায়, যা যেকোনো সময় উচ্চ চাপে বিস্ফোরিত হতে পারে। এছাড়া বালু বার্নারে আটকে গিয়ে গ্যাস লিক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
প্রতিকার ও সতর্কতা
ভোক্তাদের সচেতনতাই পারে এই ঠকবাজি রুখতে। সিলিন্ডার কেনার সময় সিল করা আছে কি না এবং ওজনে ঠিক আছে কি না তা যাচাই করা জরুরি। কোনো ধরণের সন্দেহ হলে সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাস্টমার কেয়ার বা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানানো উচিত। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি আর নিয়মিত অভিযান ছাড়া এই ‘ঠকবাজির হাট’ বন্ধ করা অসম্ভব।

businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার এলাকায় এমন কোনো প্রতারণার ঘটনা ঘটলে কমেন্টে আমাদের জানান।