Home Second Lead কার্টনের ওজন জালিয়াতি: আপনি কি মিষ্টির দামে কাগজ কিনছেন?

কার্টনের ওজন জালিয়াতি: আপনি কি মিষ্টির দামে কাগজ কিনছেন?

সিরিজ প্রতিবেদন

পকেটে সিঁধ: ভোক্তার প্রতিদিনের লড়াই 

কামরুল হাসান
যেকোনো উৎসবে বা খুশির খবরে মিষ্টি মুখ করা আমাদের সংস্কৃতির অংশ। কিন্তু এই মিষ্টি কিনতে গিয়েই আমরা এক অদ্ভুত জালিয়াতির শিকার হই। আপনি যখন এক কেজি মিষ্টি কেনেন, তখন কি আসলেও এক কেজি মিষ্টি পান? অধিকাংশ নামী-দামী মিষ্টির দোকানে মিষ্টির ওজনের সাথে কার্টনের ওজনও ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, আপনি ২৫০-৩০০ গ্রাম ওজনের একটি মোটা কাগজের কার্টনকে মিষ্টির দামে (ধরা যাক ৮০০ বা ১০০০ টাকা কেজি) কিনে নিচ্ছেন। এই সূক্ষ্ম চুরির মাধ্যমে প্রতিদিন সাধারণ ভোক্তাদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু মিষ্টি ব্যবসায়ীরা।
বিজনেসটুডে২৪-এর অনুসন্ধানে মিষ্টির বাজারের এই ‘ওজন-সন্ত্রাস’ ধরা পড়েছে।
১. কার্টনের ওজন জালিয়াতি: ভোক্তা অধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হলো পণ্যের নীট ওজনের পরিবর্তে মোড়কসহ ওজন করা। একটি এক কেজির মিষ্টির কার্টনের ওজন সাধারণত ১৫০ থেকে ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। দোকানদাররা ডিজিটাল মিটারে আগে কার্টন রেখে তারপর মিষ্টি তোলেন। ফলে আপনি এক কেজি দাম দিয়ে আসলে ৭৫০-৮০০ গ্রাম মিষ্টি পাচ্ছেন। বাকি টাকা দিচ্ছেন স্রেফ একটি কাগজের বাক্সের জন্য।
২. চিনির বদলে স্যাকারিন ও ক্ষতিকর রঙ: মিষ্টির রঙ আকর্ষণীয় করতে টেক্সটাইল ডাই বা কাপড়ের রঙ ব্যবহার করা হয়। এছাড়া খরচ কমাতে চিনির বদলে ক্ষতিকর তিতা স্যাকারিন ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি ও লিভারের ক্ষতি করে।
৩. পচা ছানা ও রি-সাইকেল মিষ্টি: বাসি হয়ে যাওয়া মিষ্টির রস ফেলে দিয়ে সেগুলো আবার নতুন রসে চুবিয়ে টাটকা বলে চালানো হয়। অনেক সময় পচে যাওয়া মিষ্টি গুঁড়ো করে তা দিয়ে কালোজাম বা কাঁচাগোল্লা তৈরি করা হয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব মিষ্টি ডায়রিয়া ও জন্ডিসের মতো রোগের প্রধান কারণ।
৪. দুধে ভেজাল ও পাম অয়েল: দামী ঘিয়ের মিষ্টি বলে অনেক সময় ডালডা বা সস্তা পাম অয়েলে ভাজা মিষ্টি বিক্রি করা হয়। ছানার বদলে ময়দার পরিমাণ বেশি দিয়ে মিষ্টির ওজন বাড়ানো হয়।
মিষ্টি কেনার সময় প্রতারণা এড়াতে যা করবেন:
  • খালি কার্টনের ওজন বাদ দেওয়া (Tare Weight): মিষ্টি তোলার আগে বিক্রেতাকে বলুন খালি কার্টনটি ডিজিটাল মিটারে রেখে ‘Zero’ বা ‘Tare’ বাটন চাপতে। এতে কার্টনের ওজন বাদ গিয়ে কেবল মিষ্টির ওজন হিসাব হবে।
  • বিএসটিআই (BSTI) ও লাইসেন্স দেখা: বড় দোকান হলে তাদের ট্রেড লাইসেন্স ও বিএসটিআই সনদ আছে কি না নিশ্চিত হোন। অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশের দোকান এড়িয়ে চলুন।
  • স্বাদ ও গন্ধ পরীক্ষা: মিষ্টি কেনার আগে একটি ছোট টুকরো চেখে দেখুন। যদি জিভে তিতা ভাব লাগে তবে বুঝবেন এতে স্যাকারিন আছে। টক গন্ধ থাকলে সেটি বাসি মিষ্টি।
  • প্যাকিংয়ের স্বচ্ছতা: সম্ভব হলে পলিথিন বা হালকা বক্সে মিষ্টি নিন যা ওজনে কম। কিন্তু সবচেয়ে ভালো হয় দোকানদারকে বাধ্য করা যেন সে কার্টনের ওজন বাদ দিয়ে মিষ্টি মেপে দেয়।
সতর্কতা ও আইন:
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, পণ্যের মোড়ক বা কার্টনের ওজন পণ্যের ওজনে অন্তর্ভুক্ত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কোনো মিষ্টির দোকানদার যদি কার্টনের ওজন বাদ দিতে অস্বীকার করে, তবে সাথে সাথে রসিদ নিয়ে ভোক্তা অধিকারের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ করুন।

পরবর্তী পর্বে ইদের পোশাকের রঙিন ফাঁদ