বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, কক্সবাজার: রাজনীতির ময়দানে তিনি পরিচিত মুখ, কিন্তু তার হলফনামা যেন কোনো থ্রিলার গল্পের চেয়ে কম নয়! কক্সবাজার-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের দাখিলকৃত হলফনামায় উঠে এসেছে তার জীবনের এক বৈচিত্র্যময় আর্থিক চিত্র।
যেখানে একদিকে আছে কৃষিখাত থেকে কোটি টাকার হাতছানি, আর অন্যদিকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য রাখা আগ্নেয়াস্ত্র ও শহরের দামী ফ্ল্যাট।
কৃষিতেই ম্যাজিক: বার্ষিক আয় ২০ লক্ষাধিক
ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের পরিচয় দিলেও আলমগীর ফরিদের আয়ের প্রধান হাতিয়ার এখন কৃষি। হলফনামার তথ্যমতে, তার বার্ষিক আয় ২০ লক্ষ ১১ হাজার ৯ টাকা । এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ অর্থাৎ ৮ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা আসে কৃষিখাত থেকে । এছাড়া বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে তিনি বছরে পান ৫ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকার বেশি । আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার মোট প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৯৪ লক্ষ ৫ হাজার টাকা ।
ব্যক্তিগত সংগ্রহে পিস্তল ও শটগান নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস নেই এই প্রার্থীর।
হলফনামায় আলমগীর ফরিদ জানিয়েছেন, তার সংগ্রহে রয়েছে দুটি শক্তিশালী আগ্নেয়াস্ত্র । ১টি পিস্তল: যার মূল্য ৫০,০০০ টাকা । ১টি শটগান: যার মূল্য ৭৭,০০০ টাকা । অস্থাবর সম্পদের তালিকায় এই অস্ত্র দুটি এখন মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। কক্সবাজার শহরে ফ্ল্যাটের সাম্রাজ্য আবাসন খাতেও বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে সাবেক এই এমপির।
কক্সবাজারের মতো পর্যটন শহরে তার নামে রয়েছে ৬টি বিশাল ফ্ল্যাট । প্রায় ৭,১৬৮ বর্গফুট আয়তনের এই ফ্ল্যাটগুলো ডেভেলপার কর্তৃক নির্মিত । এছাড়া মহেশখালীর আমতলীতে ১৬২৪ বর্গফুটের একটি নির্মাণাধীন সেমি-পাকা ঘরও রয়েছে তার । স্থাবর সম্পদের হিসেবে তার অকৃষি জমির মূল্যই দেখানো হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৩৫ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা ।
মামলার বোঝা ও রাজনৈতিক ইতিহাস বিপুল সম্পদের পাশাপাশি তার সঙ্গী হয়েছে মামলার পাহাড়ও।
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৩টি মামলা চলমান রয়েছে, যার মধ্যে একটি দুদকের এবং একটি দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা । তবে এর আগে তিনি ৩টি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন ।
১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়া এই প্রার্থী ভোটারদের কাছে তার অতীতের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন ।
কোটি টাকার সম্পদ, কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য আর ব্যক্তিগত অস্ত্রের নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে আলমগীর ফরিদের হলফনামা এখন টক অব দ্য টাউন। নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে এই ‘পাওয়ারফুল’ প্রোফাইল তাকে কতটা সাহায্য করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।