Home জাতীয় রূপপুর থেকে ডিসেম্বরে  জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ

রূপপুর থেকে ডিসেম্বরে  জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ

সংগৃহীত ছবি

প্রকল্পে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট , প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াটের

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: অবশেষে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রূপপুরের পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর সুনির্দিষ্ট সময়সীমা চূড়ান্ত হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাস থেকেই রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।
এ লক্ষ্যে কেন্দ্রটিতে চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ বা জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিংয়ের জন্য আনুষ্ঠানিক লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। আর আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে জাতীয় গ্রিডে ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ) এই লাইসেন্স চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীনস্থ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-কে এই কমিশনিং লাইসেন্স দেওয়া হয়। এর ফলে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোড করার আইনি ও কারিগরি বাধা দূর হলো।
এর আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এনপিসিবিএল-কে অপারেটর হিসেবে অথারাইজেশন এবং এর ৫৯ জন প্রকৌশলীকে ব্যক্তিগত লাইসেন্সও প্রদান করেছে বিএইআরএ।
প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে এনপিসিবিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য তারা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র নির্দেশিকা মেনে নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সেফগার্ডের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনাপত্তিপত্রও (এনওসি) পাওয়া গেছে। সরকার জ্বালানি লোডিং উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করলে সেই অনুযায়ী কাজ শুরু হবে।
তারা আশা করছেন, জুলাইয়ের মধ্যে প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের একটি তারিখ নির্ধারিত থাকলেও কিছু কারিগরি ও লাইসেন্স সংক্রান্ত নিরাপত্তা যাচাইয়ের কারণে তা পিছিয়ে যায়।
বিএইআরএ চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তারা সমস্ত দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেছেন এবং এখন তারা সবাই ফুয়েল লোডিংয়ের বিষয়ে একমত হয়েছেন। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হলেও আইএইএ-র কড়া নজরদারিতে বিএইআরএ-র লাইসেন্স ছাড়া তা ব্যবহার করা সম্ভব ছিল না।
রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন।
 উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা হবে এবং লোডশেডিংয়ের সমস্যা অনেকটা কমে আসবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এমন আরও খবরের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন businesstoday24.com
আপনার মতামত জানান: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে দেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে বলে আপনি মনে করেন? আপনার মূল্যবান মতামত নিচে কমেন্ট করে আমাদের সাথে শেয়ার করুন।