বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ:ফতুল্লায় দুই সন্তানের জননী লাকি আক্তারকে (২৬) শ্বাসরোধে হত্যার পর স্বামী দুই সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
লাকি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার শ্বানেস্বর গ্রামের সাত্তার হাওলাদারের মেয়ে। নিহতের পরিবার জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ফতুল্লা বাজারের কসাই শিপনকে (৪০) বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রী ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকায় ফজলু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তাদের সংসারে রয়েছে দশ বছরের এক ছেলে ও ছয় বছরের এক মেয়ে।
লাকির ভাগিনা ইমাম হোসেন বলেন, “আম্মুর মতো করে লাকিকে মানুষ পছন্দ করত। কিন্তু শিপন ভাইয়ের রাগ ছিল প্রচণ্ড। ঝগড়া হতো প্রায়ই। কিন্তু এমন করবে বুঝিনি। রাতে ফোন দিয়ে বলে লাকি আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু ঘরে ঢুকে দেখি গলায় আঘাতের দাগ, নিথর মুখ, চাদর দিয়ে শরীর ঢেকে রেখেছে। এটা কী করে আত্মহত্যা হয়!”
ঘটনার রাতে শিপন ফোনে জানান, লাকি আত্মহত্যা করেছেন। পরে পরিবারের লোকজন ছুটে এসে ঘরের দরজায় তালা লাগানো দেখতে পান। বাড়িওয়ালার সহায়তায় তালা ভেঙে তারা লাকির নিথর দেহ উদ্ধার করেন। গলায় আঘাতের দাগ দেখে আত্মহত্যার দাবি নাকচ করে দেন সবাই।
খানপুর হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা লাকিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচা মো. শহিদুল হক বলেন, “একটা মেয়ে এত সংগ্রাম করে সংসার করল, দুইটা বাচ্চা জন্ম দিল, আর তাকে এভাবে মেরে ফেলে পালিয়ে গেল! রাষ্ট্র কি আমাদের বিচার দেবে না?”
প্রতিবেশীরাও জানান, শিপন ও লাকির মধ্যে মাঝে মাঝে তর্কবিতর্ক হতো, তবে এমন কাণ্ড কেউ কল্পনাও করেননি।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, “মোটামুটি নিশ্চিত আমরা এটি হত্যাকাণ্ড। পারিবারিক কলহ থেকে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। স্বামী শিপনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে দুই শিশুসন্তান কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে—এ নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটছে লাকির পরিবারের। সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
মানবাধিকার কর্মী নারগিস পারভীন বলেন, “নারীর ওপর সহিংসতা ঠেকাতে আমরা যতই আইন করি, ততই যেন অন্ধকার গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছি। এই ঘটনার দ্রুত বিচার চাই, যেন আর কোনো মা এভাবে নিঃশব্দে মরতে না হয়।”










