আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের তেল বিক্রির অর্থ লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত একটি বিশাল ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ (ছায়া ব্যাংকিং) নেটওয়ার্কের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) মঙ্গলবার ইরানের একটি মুদ্রা বিনিময়কারী প্রতিষ্ঠান (এক্সচেঞ্জ হাউস) এবং এর অধীনে থাকা একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্রন্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। এর পাশাপাশি ইরানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পরিবহনে জড়িত ১৯টি কার্গো জাহাজও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, মূল নিষেধাজ্ঞাটি দেওয়া হয়েছে ইরানভিত্তিক ‘আমিন এক্সচেঞ্জ’ (যা ইব্রাহিমি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস পার্টনারশিপ কোম্পানি নামেও পরিচিত) এর ওপর। এই প্রতিষ্ঠানটি সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), তুরস্ক এবং হংকং সহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ফ্রন্ট কোম্পানির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানি ব্যাংকগুলোর পক্ষে শত শত মিলিয়ন ডলারের অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন করত।
নিবন্ধিত ফ্রন্ট কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে চীনের নিংবো জিয়ারুই ট্রেডিং, হংকংয়ের স্টারশাইন পেট্রোকেমিক্যাল, ভিগোরাস ট্রেডিং, বেস্টফরচুনা কোম্পানি, চেং প্যান কোম্পানি এবং ইউএই-ভিত্তিক আলিন গুডস হোলসেলার্স, বোল্ড ট্রেডিং ও মেটেরিয়াম গ্রুপ। মার্কিন এই পদক্ষেপের ফলে দেশটিতে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের সমস্ত সম্পদ অবরুদ্ধ হবে এবং কোনো মার্কিন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান তাদের সাথে ব্যবসা করতে পারবে না।
এ বিষয়ে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের এই ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের পথ সুগম করে। ওয়াশিংটনের ‘ইকোনমিক ফিউরি’ অভিযানের আওতায় তেহরানের এই অবৈধ ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক এবং গোপন জাহাজ বহরকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
একই সাথে মার্কিন অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) ইরানি তেল পরিবহনে জড়িত বার্বাডোসের পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘গ্রেট সেল’, পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘ওশান ওয়েভ’ এবং পানামার পতাকাবাহী কেমিক্যাল ট্যাঙ্কার ‘সুইফট ফ্যালকন’ সহ মোট ১৯টি নৌযানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।
ট্রেজারি বিভাগের এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে এলো যার ঠিক আগেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে তেহরান এই প্রস্তাব দেয়।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তাদের এই শান্তি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধাবসান, ইরান সীমান্তের কাছাকাছি এলাকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং চলমান সংঘাতের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান। তবে সেই প্রস্তাবের পরপরই মার্কিন প্রশাসন অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করার নীতি বজায় রাখল।
নিয়মিত এমন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও ব্যবসায়িক খবরের আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।









