Home ব্যাংক-বিমা লেনদেনের শীর্ষে সিটি ব্যাংক: শেয়ার বিশ্লেষণ

লেনদেনের শীর্ষে সিটি ব্যাংক: শেয়ার বিশ্লেষণ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে লেনদেনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সিটি ব্যাংক পিএলসি। শক্তিশালী আর্থিক পারফরম্যান্স এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর ভর ব্যাংকটি লেনদেনের তালিকার শীর্ষ স্থান দখল করেছে।
২ মার্চ ডিএসইতে সিটি ব্যাংকের শেয়ারটি ছিল বিনিয়োগকারীদের অন্যতম পছন্দের তালিকায়। দিনের শুরুতে শেয়ারটি ৩২.০০ টাকা থেকে লেনদেন শুরু করে এবং দিনভর ব্যাপক চাহিদার মুখে এক পর্যায়ে ৩৩.৬০ টাকায় পৌঁছায়, যা ছিল এর ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ দর। দিন শেষে শেয়ারটি ৩৩.৩০ টাকা দরে লেনদেন শেষ করে, যা আগের দিনের চেয়ে ১.৪০ টাকা বা ৪.৩৯ শতাংশ বেশি।
ব্যাংকটির ১ কোটি ৩৯ লক্ষ ১০ হাজারেরও বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে  সোমবার। যামোট বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৪৬ কোটি টাকা (৪৬০.১৬ মিলিয়ন)। লেনদেনের এই বিশাল পরিমাণ নির্দেশ করে যে সাধারণ বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও শেয়ারটিতে বড় অবস্থানে যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সিটি ব্যাংকের শেয়ার দরে এই উল্লম্ফনের পেছনে মূল কারণ হলো এর অবিশ্বাস্য কম পি/ই রেশিও এবং শক্তিশালী মুনাফা।
১. ট্রেইলিং পি/ই ৩.৭৩: বর্তমানে ব্যাংকটির পি/ই রেশিও মাত্র ৩.৭৩-এর ঘরে। ব্যাংকিং খাতের গড় পি/ই যেখানে অনেক বেশি, সেখানে সিটি ব্যাংক এখনও অত্যন্ত সাশ্রয়ী অবস্থায় রয়েছে।
২. মুনাফায় বড় লাফ: ২০২৫ সালের ৯ মাসের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংকটির ইপিএস (EPS) দাঁড়িয়েছে ৪.৭৫ টাকা, যা আগের বছর ছিল মাত্র ২.৭৭ টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকটির ব্যবসায়িক মুনাফায় প্রায় ৭১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থার অন্যতম কারণ সিটি ব্যাংকটির  নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানের ইতিহাস। ২০২৪ সালের জন্য ব্যাংকটি ১২.৫০ শতাংশ নগদ এবং ১২.৫০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়ে বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্ট রেখেছে। অবশ্য ১০ বছরের লভ্যাংশ চিত্র বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায়, ব্যাংকটি কোনো বছরই বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেনি।
বিশ্লেষকদের অভিমত: বর্তমান বাজার প্রেক্ষাপটে সিটি ব্যাংক একটি ‘ভ্যালু স্টক’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একদিকে এর বিশাল পেইড-আপ ক্যাপিটাল (১৫,২১২.২২ মিলিয়ন টাকা), অন্যদিকে ধারাবাহিকভাবে বাড়ন্ত রিজার্ভ ও সারপ্লাস ব্যাংকটিকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে। ৩ মার্চ শেয়ারটি যদি এর বর্তমান রেজিস্ট্যান্স লেভেল ৩৩.৬০ টাকা অতিক্রম করতে পারে, তবে নতুন করে বড় উত্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে টানা দরবৃদ্ধির ফলে কিছুটা মুনাফা বিক্রির (Profit Booking) চাপও থাকতে পারে।
শেয়ারবাজারের সর্বশেষ আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মতামত কমেন্টে জানান। আপনার পোর্টফোলিওতে সিটি ব্যাংকের শেয়ার কি আজ বিক্রির তালিকায় আছে নাকি আপনি এটি আরও দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে চান?