হংকংয়ের আকাশপথ ব্যবহার করে জাপানে পাচারের সময় এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ মূল্যবান ধাতুর চালানটি রুখে দিয়েছে কাস্টমস কর্মকর্তারা। গত সোমবার এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১৬৮ কেজি সোনা এবং ২৮৫ কেজি রুপার ফয়েল। আন্তর্জাতিক বাজারে যার মূল্য প্রায় ২৩০ মিলিয়ন হংকং ডলার বা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা। হংকংয়ের ইতিহাসে এটিই একক কোনো অভিযানে সবচেয়ে বড় জব্দ করার ঘটনা।
চোরাকারবারিরা সাধারণ ঘরোয়া ক্লিনিং মেশিনের (আল্ট্রাসোনিক ক্লিনার ও ইউভি স্টেরিলাইজার) ভেতরে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে এই সোনা ও রুপা লুকিয়েছিল। মোট ৪,৬৮০টি মেশিনের প্রতিটির নিচের অংশে একটি করে বাড়তি ধাতব পাত বসানো ছিল, যার ভেতরে ছিল সোনা ও রুপার ফয়েল। এক্স-রে পরীক্ষায় অস্বাভাবিক ঘনত্বের অস্তিত্ব পাওয়া গেলে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয় এবং মেশিনগুলো খুলে এই বিশাল ভাণ্ডারের সন্ধান মেলে।
তদন্তকারীরা বলছেন, জাপানে সোনা আমদানির ওপর ১০ শতাংশ ভ্যাট বা কনজাম্পশন ট্যাক্স ফাঁকি দিতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল। যদি পাচারটি সফল হতো, তবে অপরাধীরা প্রায় ৩৬ কোটি টাকার কর ফাঁকি দিতে পারত। ঝুঁকি কমাতে তারা পুরো চালানটি দুটি ভিন্ন ফ্লাইটে পাঠিয়েছিল।
হংকংয়ের এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ চোরাচালানের বড় বড় রেকর্ডগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ইতিহাসের পাতায় এমন আরও কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা রয়েছে:
১. ভেনেজুয়েলা-অরুবা অভিযান (২০২০): লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম বড় স্বর্ণ জব্দের ঘটনা ঘটে অরুবা দ্বীপে। একটি ব্যক্তিগত বিমানে ভেনেজুয়েলা থেকে পাচারকালে প্রায় ৪৬০ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছিল।
২. উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক কেলেঙ্কারি (১৯৭৬): কায়রো বিমানবন্দরে উত্তর কোরিয়ার কূটনীতিকদের ব্যাগ থেকে প্রায় ৪১০ কেজি সোনা জব্দ করা হয়। এটি ছিল তৎকালীন সময়ের বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও বিতর্কিত চোরাচালান ঘটনা।
৩. হংকংয়ের পূর্ববর্তী রেকর্ড (২০২৪): এই ঘটনার ঠিক দুই বছর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে হংকং কাস্টমস ১৪৬ কেজি সোনা জব্দ করেছিল, যা তখন পর্যন্ত ছিল তাদের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এবারের ১৬৮ কেজি সোনার চালান সেই রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গেছে।
৪. দুবাই ও ভারতের বড় চালান (২০১৩-২০২৪): দুবাই থেকে ভারতে বা বাংলাদেশে পাচারের সময় ১০০ থেকে ১৫০ কেজির ওপর সোনা কয়েকবার জব্দ করার নজির রয়েছে। বিশেষ করে ২০১৩ সালে বাংলাদেশের শাহজালাল বিমানবন্দরে ১২৪ কেজি সোনার একটি পরিত্যক্ত চালান উদ্ধার করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় চোরাচালান চক্রগুলো এখন বড় বড় লটে ঝুঁকি নিচ্ছে। হংকং কাস্টমস বর্তমানে এই চক্রের সাথে জড়িত ভুয়া কোম্পানি ও আন্তর্জাতিক পাচারকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশ-বিদেশের আরও চাঞ্চল্যকর এবং ব্যবসায়িক খবরের আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য আমাদের জানান।