বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা:বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘কাতার এনার্জি’ তাদের সকল এলএনজি চালানের ওপর ‘ফোর্স মজিউর’ (Force Majeure) বা অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-চলাচলে চরম ঝুঁকির মুখে আজ ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে এক জরুরি বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। তাদের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম এক ধাক্কায় ২০% থেকে ৩০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ সচল রাখতে কিছু জাহাজ আফ্রিকার ‘কেপ অফ গুড হোপ’ হয়ে ঘুরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও এলএনজি ট্যাঙ্কারের এত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ।
কাতার এনার্জি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক সামরিক অস্থিরতা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার কারণে সমুদ্রপথ অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এলএনজি পরিবাহী বিশাল ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিশ্চিত করা বর্তমানে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক শিপিং ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলো এই রুটে বীমা সুবিধা স্থগিত করায় আইনিভাবে সরবরাহ চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
কাতারের এই আকস্মিক ঘোষণায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারতের মতো দেশগুলো যারা কাতারের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, তারা চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় কাতার থেকে বড় পরিমাণের এলএনজি আমদানি করে। কাতারের ওই ঘোষণার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা: জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এতে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বাড়তে পারে।
গ্যাস সংকটের কারণে তৈরি পোশাক খাতসহ অন্যান্য শিল্পকারখানা এবং সার কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, যা সরাসরি কৃষি ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে। চুক্তিবদ্ধ গ্যাস না পেলে সরকারকে বিকল্প হিসেবে স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে এলএনজি কিনতে হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়তে পারে। কাতার এনার্জি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া মাত্রই সরবরাহ পুনরায় শুরু করার আশ্বাস দিলেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
businesstoday24.com ফলো করুন ।










