Home সারাদেশ স্বামীকে হত্যার পর টুকরো ‍টুকরো, ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা

স্বামীকে হত্যার পর টুকরো ‍টুকরো, ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা

ছবি সংগৃহীত

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, শরীয়তপুর: “মানুষের ভেতরে যে একটা হিংস্র পশু লুকিয়ে থাকে, সে সুযোগ পেলে কখন গর্জে উঠবে তা মানুষ নিজেও জানে না।”

বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের এই গভীর জীবনসত্যেরই যেন এক নৃশংস প্রতিফলন ঘটল শরীয়তপুরের শান্ত জনপদে। প্রেম, প্রবাস জীবনের সচ্ছলতার স্বপ্ন এবং একটি সাজানো সংসারের গল্প যে এভাবে চরম ট্র্যাজেডিতে রূপ নিতে পারে, তা হয়তো খোদ নিয়তিও ভাবেনি। এক সময়ের ভালোবাসার বন্ধন পরিণত হলো এমন এক হাড়হিম করা অধ্যায়ে, যা যেকোনো কাল্পনিক উপন্যাসের নৃশংসতাকেও হার মানায়।

১২ মে রাতের অন্ধকার শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর বাজার এলাকায় শুধু একটি জীবনের আলোই নিভিয়ে দেয়নি, বরং উন্মোচিত করেছে মানুষের মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা এক অতল অন্ধকার। মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার ও আসমা আক্তারের আট বছরের দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি ঘটল তীব্র পারিবারিক কলহের জেরে। ক্ষণিকের ক্রোধ আর মাথায় রডের একটি আঘাত কেড়ে নিল জিয়ার প্রাণ। কিন্তু গল্পের আসল বিভীষিকা শুরু হলো এরপর।

নিজের অপরাধ ঢাকতে আসমা আক্তার যা করলেন, তা কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের পক্ষে কল্পনা করাও কঠিন। যে স্বামীকে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন, তার মৃতদেহকে ছুরি দিয়ে কেটে করলেন ছয় টুকরো। হাড় আর মাংস আলাদা করে তিন দিন ধরে বন্দি করে রাখলেন ড্রামের ভেতর।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘নষ্টনীড়’ উপন্যাসে লিখেছিলেন— “যাহা সহজে ভাঙিয়া যায় তাহা সহজে জোড়া লাগে না।” কিন্তু এখানে শুধু সংসার ভাঙেনি, ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে মানবিকতার শেষ দেয়ালটুকু। রক্তমাখা সেই দিনগুলো পেরিয়ে শুক্রবার রাতে লাশের খণ্ডিতাংশ পদ্মা নদীর তীর ও পৌরসভার বৃক্ষতলা এলাকায় ফেলে আসেন আসমা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। লাশের মাংসগুলো যখন তিনি পুরোনো বাসার এক প্রতিবেশীর ফ্রিজে রাখতে যান, তখন বাতাস ভারী হয়ে ওঠে তীব্র দুর্গন্ধ আর পাপের বোঝায়। স্থানীয়দের সন্দেহ এবং জরুরি সেবা ৯৯৯-এর একটি ফোন কলের মাধ্যমে অবসান ঘটে এই তিন দিনের লোমহর্ষক নাটকের। পালং মডেল থানা পুলিশ এসে উদ্ধার করে জিয়ার খণ্ডিত দেহাংশ এবং আটক করে আসমাকে।

গ্রেপ্তারের পর আসমা আক্তারের জবানবন্দি যেন কোনো মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের সবচেয়ে রহস্যময় সংলাপ। তিনি অকপটে অপরাধ স্বীকার করে বলেন, “আমি জীবনে একটা পিঁপড়াও মারিনি। কিন্তু এ ঘটনা কিভাবে ঘটে গেল, বুঝতে পারিনি।”

মানুষের ভেতরের এই দ্বিচারিতা, ক্ষণিকের মোহে পশুকে জাগিয়ে তোলা আর তারপর অবুঝের মতো নিয়তির দোহাই দেওয়া— এ যেন এক চিরন্তন মানবিক ট্র্যাজেডি। ভালোবাসার ঘর আজ শ্মশান, আর একটি জীবন হারিয়ে গেল অন্ধকারের অতল গহ্বরে।


 আপডেট পেতে businesstoday24.com পেজটি ফলো করুন