বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, পাবনা: পাবনার সুজানগর উপজেলার আমিনপুর থানার বিরাহিমপুর কবরস্থান থেকে এক রাতে অন্তত ২১টি কঙ্কাল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৪ জুলাই) ভোরে এলাকাবাসী কবর জিয়ারত করতে গিয়ে দেখতে পান, একাধিক কবর খোঁড়া অবস্থায় পড়ে আছে এবং কঙ্কালগুলো নিখোঁজ।
এই ভয়ানক দৃশ্য চোখে পড়ার পরপরই গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মালেক বলেন, “এটা শুধু চুরি নয়, আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতির ওপর ভয়ানক আঘাত। আমরা এমন জঘন্য ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংঘবদ্ধ কোনো চক্র পরিকল্পিতভাবে এই অপকর্ম করেছে। আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, “চক্রটি পেশাদার বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা তদন্ত করে চক্রটি শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।”
পুরনো কৌশলে নতুন ভয়
বিরাহিমপুরের এই ঘটনা প্রথম নয়। এর আগে খাস আমিনপুর ও সাঁথিয়া উপজেলার রাজাপুর কবরস্থান থেকেও এভাবে কঙ্কাল চুরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ফলে কবরস্থানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চক্র দীর্ঘদিন ধরেই এই কাজ করে আসছে।
কেন চুরি হয় কঙ্কাল, কোথায় যায় সেগুলো?
পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, কঙ্কাল চুরির পেছনে থাকে মূলত দুটি উদ্দেশ্য—অবৈধ চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি এবং বিদেশে বিক্রি। বেশিরভাগ সময় এসব কঙ্কাল সরবরাহ করা হয় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ফরেনসিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং কিছু সময় গোপনে বিদেশি গবেষণাগারে। আইনগতভাবে মৃতদেহ বা কঙ্কাল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও গোপন বাজারে এর চাহিদা এখনও প্রবল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃতদেহ থেকে হাড় ও কঙ্কাল সংগ্রহ করে তা রপ্তানিযোগ্য প্যাকেটে রূপান্তর করার জন্য বাংলাদেশে একটি চোরাচালান চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। কঙ্কাল প্রতিটির আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কয়েক হাজার টাকা থেকে কয়েক লাখ পর্যন্ত হতে পারে, নির্ভর করে সেটি কতটা সংরক্ষিত এবং সম্পূর্ণ কিনা।
ধর্মীয় ক্ষোভ ও নিরাপত্তা দাবি
স্থানীয়রা বলছেন, এটি শুধু আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, এটি ধর্মীয় অনুভূতিরও বড় ধরনের অবমাননা। তারা প্রত্যেক কবরস্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, রাতের পাহারাদার নিয়োগ ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানান।
অবিলম্বে দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে এমন ঘটনা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। পাবনার সাধারণ মানুষ এখনো শোকে বিহ্বল, আর মৃত আত্মীয়দের সম্মান রক্ষা করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায়।










